আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নির্বাচনি প্রচারণা শুরু করতে সিলেটে পৌঁছেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাত ৮টার দিকে বিমানের একটি ফ্লাইটে সিলেট এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তিনি।
এ সময় স্ত্রী ডা: জুবাইদা রহমান, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ ১৪ জন শীর্ষ কেন্দ্রীয় নেতা তার সাথে ছিলেন। বিমানবন্দরে তারেক রহমানকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান সিলেট জেলা ও মহানগর বিএনপির শীর্ষ নেতারা।
জানা গেছে, বিমানবন্দর থেকে সরাসরি গ্র্যান্ড সিলেট হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে পৌঁছান বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ অতিথিরা। সেখানে তারা রাত্রি যাপন করবেন।
তারেক রহমানের আগমন উপলক্ষে গ্র্যান্ড সিলেট হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট নজিরবিহীন নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা হয়েছে। তারেক রহমানের সফরসঙ্গী ব্যতীত আজ হোটেলে কোনো অতিথি বুকিং দেয়নি কর্তৃপক্ষ। পুলিশের পাশাপাশি একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা নিয়োজিত রয়েছেন হোটেলটির আশেপাশে। শিডিউল না দিলেও আজ রাতের কোনো এক সময় হযরত শাহজালাল ও শাহপরান (রহ:)-এর মাজার জিয়ারত করার কথা রয়েছে তারেক রহমানসহ সফরসঙ্গীদের।
জানা গেছে, বিমানবন্দরে তারেক রহমানকে স্বাগত জানান বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও সাবেক সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরী, মহানগর বিএনপির সভাপতি কয়েস লোদী, সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেনসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
এদিকে তারেক রহমানের সফরকে ঘিরে সিলেটজুড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। পুরো নগরে কয়েকদিন ধরেই সাজ সাজ রব। দলীয় প্রধানের দৃষ্টি কাড়ার জন্য আলীয়া মাদরাসা মাঠসহ নগরীজুড়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা ব্যানার, বিলবোর্ড, ফ্যাস্টুন লাগিয়েছেন। চলছে সমাবেশ সফলের প্রস্তুতি।
এছাড়া জামাই তারেক রহমানকে বরণ করার জন্য সাজানো হচ্ছে দক্ষিণ সুরমার শ্বশুর বাড়ি। রাতেই হযরত শাহজালাল (রহ:)-এর মাজার জিয়ারত শেষে স্ত্রীকে নিয়ে তারেক রহমান যাবেন শ্বশুর বাড়ি।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকালে গ্র্যান্ড সিলেট হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে তরুণদের সাথে মতবিনিময় করবেন বিএনপি চেয়ারম্যান। পরে সকাল ১০টার দিকে তিনি নগরীর চৌহাট্টা এলাকার সিলেট সরকারি আলিয়া মাদরাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় যোগ দেবেন। এখান থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে তার নির্বাচনি প্রচারণা শুরু হবে। এ সময় তিনি সিলেট ও সুনামগঞ্জের বিএনপির প্রার্থীদেরকে পরিচয় করিয়ে দেবেন।
সিলেটের জনসভা শেষ করে তারেক রহমান সড়কপথে ঢাকায় ফিরবেন। ফেরার সময় তিনি মৌলভীবাজার সদর উপজেলার শেরপুর ও হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলায় আয়োজিত পৃথক দু’টি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেবেন। পথে কিশোরগঞ্জের ভৈরব, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জে সভা করার কথা রয়েছে বলেও দলীয় নেতারা বলছেন।
বুধবার দুপুরে নগরীর রিকাবীবাজার, চৌহাট্টা ও আম্বরখানা এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, পুরো এলাকা তারেক রহমানের ছবি সম্বলিত তোরণ, বিলবোর্ড, ব্যানার ও ফেস্টুন দিয়ে সাজানো হয়েছে। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে মোড়ে রয়েছে জনসভার প্রচারের ব্যানার-ফেস্টুন। নগরজুড়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে এক ধরনের উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। আলীয়া মাদরাসা মাঠের চারপাশ সাজানো হয়েছে নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছা জানানোর বিলবোর্ড, ব্যানার ও ফেস্টুন দিয়ে।
বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর জিয়াউর রহমান প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রার্থী হয়ে এবং খালেদা জিয়া ১৯৯১ সাল থেকে সব কয়টি নির্বাচনে সিলেটে থেকেই নির্বাচনি প্রচার শুরু করেছেন। সেই ধারাবাহিকতা তারেক রহমানও বজায় রেখেছেন। দীর্ঘ ১৭ বছর তিনি যুক্তরাজ্যের লন্ডনে নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে চব্বিশের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর তিনি দেশের মাটিতে পা রাখেন।
সিলেট সফর উপলক্ষে সিলেট-১ আসনের প্রার্থী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, ‘বৃহস্পতিবারের সমাবেশে সিলেট ও সুনামগঞ্জ থেকে তিন লাখ বা তারও বেশি নেতাকর্মী-সমর্থকের উপস্থিতি প্রত্যাশা করছে দল। এটি কোনো বিভাগীয় সমাবেশ নয়, তবু সাম্প্রতিক সময়ে সিলেটের অন্যতম বড় জনসমাবেশ হবে এটি।’
সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার আবদুল কুদ্দুস চৌধুরী বলেন, ‘জনসভা ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সব ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থামূলক প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। মাঠে গোয়েন্দা পুলিশ, সাদা পোশাকের পুলিশের নজরদারি থাকবে। সেইসাথে অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সমাবেশস্থল ও আশপাশের এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারি থাকবে।’



