শিবচরে ঈদ আনন্দে পদ্মাপাড়ে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়

এই প্রথম পদ্মাপাড়ে ঘুরতে এসেছি। রোজার ঈদের ছুটি যেহেতু অনেক দিন। তাই ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পরিবারের অনেকের সাথে ঘুরতে পেরে খুব আনন্দ লাগছে।

শিবচর (মাদারীপুর) সংবাদদাতা

Location :

Shibchar
পদ্মাসেতু এলাকায় দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়
পদ্মাসেতু এলাকায় দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় |নয়া দিগন্ত

মাদারীপুরের শিবচরে রোজার পরে ঈদের দ্বিতীয় দিন বিকেলে ঈদের আনন্দ উপভোগ করার জন্য পদ্মাপাড়ে দর্শনার্থীদের চোখে পড়ার মতো ভিড় দেখা গিয়েছে। যা সন্ধ্যা পর্যন্ত অপরিবর্তিত ছিল।

সোমবার (২৩ মার্চ) বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ঈদের আনন্দ উপভোগ করার জন্য শিবচরের পদ্মাপাড়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার দর্শনার্থীদের রয়েছে প্রচুর ভিড়।

শিবচর উপজেলার কাঁওড়াকান্দি পুরাতন ফেরিঘাট এলাকা থেকে পদ্মা নদীর পাড় ঘেঁসে কাঁঠালবাড়ী পুরাতন লঞ্চঘাট অতিক্রম করে জাজিরা পদ্মাসেতুর দক্ষিণ প্রান্তের এলাকাজুড়ে প্রায় ১০ কিলোমিটার পর্যন্ত পদ্মাসেতুর দক্ষিণপাড়ের অংশ দিয়ে এঁকেবেঁকে বেঁড়িবাঁধ রয়েছে।

ওই বেড়িবাঁধ দিয়ে পায়ে হেঁটে, মোটরসাইকেল কিংবা অটোগাড়িতে করে একঝলক আনন্দ উপভোগ করতে বিশেষ করে পদ্মাসেতুর জাজিরা প্রান্তে প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকাজুড়ে জনসমুদ্রে পরিণত হয়। বিকেল থেকে লোকালয়ে ভরপুর দর্শনার্থীর দেখা মিলছে, যা সন্ধ্যা পর্যন্ত অপরিবর্তিত ছিল।

পদ্মাপাড়ে পড়ন্ত বিকেলের উষ্ণতায় যেন পরম ভালোবাসা ফিরে পায়। তাই পায়ে হেঁটে ক্লান্ত হলেও অক্লান্ত অনুভূতি মনে করে ঘুরে বেড়িয়ে পদ্মাপাড়ের সৌন্দর্য্য অবলোকন করছেন ভ্রমণপিপাসুরা। মন ভোলানো চোখ জুড়ানো দক্ষিণা বাতাসে পদ্মানদীর পানিতে মৃদুমৃদু ছোট ছোট ঢেউ দোল খাচ্ছে। পদ্মানদীতে জেলেরা নৌকা, ট্রলার দিয়ে জাল পেতে মাছ ধরছে। বর্ষার আগমনী বার্তা দিতে পদ্মা নদীতে অল্প অল্প করে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। পদ্মাপাড়ের বেষ্টনী ঘেরা এমন বিচিত্র দৃশ্য দেখতে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা।

এই মনোমুগ্ধকর আবহাওয়া ও পদ্মাপাড়ের সৌন্দর্য্য দেখতে প্রতি শনিবার স্থানীয় লোকজন ছাড়াও আশেপাশের জেলা বিশেষ করে ঢাকা থেকে প্রচুর ভ্রমণপিপাসু আসেন। আনন্দে মেতে উঠেতে বিকেলবেলা অসংখ্য নারী-পুরুষের জমায়েত হয়ে থাকে।

ঈদুল ফিতর উপলক্ষে শহর ছেড়ে গ্রামে ছুটি কাটাতে আসেন অনেকে। তাই ঈদের দ্বিতীয় দিন হাজার হাজার দর্শনার্থীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। পরিবারসহ বন্ধু-বান্ধব মিলে পদ্মাপাড়ের দৃশ্য দেখার জন্য ছুটে আসছেন দলবেঁধে মোটরসাইকেল বহর নিয়ে। নিকট থেকে দেখছে পদ্মাসেতুর দৃশ্যও। অনেকেই পদ্মাসেতুর নিচে সেতুর দৃশ্যপট স্মৃতি ধারণের জন্য তুলছে সেলফিও। কেউ কেউ পদ্মা নদীতে নৌকা কিংবা স্পিডভোট দিয়ে ঘুরছেন।

ঈদের ছুটি ছাড়াও অন্যান্য সময়ও পদ্মাসেতু এলাকায় ছুটে আসছে পিকনিক কিংবা বনভোজন উপলক্ষে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থীরা।

পদ্মাপাড়ের দর্শনার্থীদের বিনোদন দেয়ার জন্য ছোট ছোট অসংখ্য অস্থায়ী ফুটপাত আকারে বিভিন্ন ধরনের খাবারের দোকান দেখা যায়। বাদাম, ঝালমুড়ি, ডাব, শরবত, ফুসকা, চটপটিসহ বাচ্চাদের হরেক রকমের খেলনা সামগ্রী ঘুরেফিরে বিক্রি করছে হকাররা। দর্শকদের বিনোদন দিতে সেতু এলাকায় মিনি পার্কে নাগর দোলা ও ঘোড়ায় চড়ে এদিক সেদিক ঘুরছে অনেকেই।

একাধিক দর্শনার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, এই প্রথম পদ্মাপাড়ে ঘুরতে এসেছি। রোজার ঈদের ছুটি যেহেতু অনেক দিন। তাই ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে পরিবারের অনেকের সাথে ঘুরতে পেরে খুব আনন্দ লাগছে।

আবার কেউ কেউ বলছেন, পদ্মাপাড়ে এর আগে আসিনি। পদ্মাসেতু হওয়াতে আমরা এই সেতু দেখতে এসেছি। এতে খুব আনন্দ লাগছে।

নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে পদ্মাসেতু এলাকায় জনস্বার্থের জন্য নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। নৌপথ ও স্থলপথে নৌপুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশের নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। সোজা কথা নিরাপত্তায় কোনো ঘাটতি নেই।