৫৩ কোটি টাকার প্রকল্পে নেই সুফল, মঠবাড়িয়ায় পানির জন্য হাহাকার

পিরোজপুরের প্রথম শ্রেণির মঠবাড়িয়া পৌরসভায় ৫৩ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত পানি সরবরাহ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

‎মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) সংবাদদাতা

Location :

Pirojpur
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া পৌরসভা
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া পৌরসভা |নয়া দিগন্ত

পিরোজপুরের প্রথম শ্রেণির মঠবাড়িয়া পৌরসভায় ৫৩ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত পানি সরবরাহ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কয়েক বছর পরও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত সুফল। অনিয়মিত পানি সরবরাহ, বিভিন্ন স্থানে পাইপ ফেটে যাওয়া এবং দুর্গন্ধ ও কর্দমাক্ত পানি সরবরাহের অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পৌরবাসী। এতে বিপুল অর্থ ব্যয়ে বাস্তবায়িত প্রকল্পটির কাজের মান ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, পৌরবাসীর সুপেয় পানির সঙ্কট নিরসনে সি টি ই আই পি প্রকল্পের আওতায় ৫৩ কোটি ৯ লাখ ৯৫ হাজার ৮৬ টাকা অর্থায়নে পানি সরবরাহ প্রকল্পের অবকাঠামো নির্মাণকাজ করা হয়। এই প্রকল্পের কাজটি পায় গোপালগঞ্জের সিনোকোনোস্ট-এমটি অ্যান্ড এসএস কনসোর্টিয়াম নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তারা পৌর শহরে ৫৪ কিলোমিটার পানির পাইপলাইন স্থাপন করে। পাইপলাইনের মাধ্যমে বাসাবাড়িতে সুপেয় পানি সরবরাহ করা হয়।

ভুক্তভোগীরা জানান, ২০১৪ সালে কাজ শুরুর পর থেকেই ঠিকাদারের লোকজন মঠবাড়িয়া পৌরসভার অফিসের অসাধু কর্মকর্তার যোগসাজশে প্রকল্পের অবকাঠামো কাজে খুবই নিম্নমানের পাইপ, লোহা, পাথর ও সিমেন্ট ব্যবহার করে পাম্প হাউস, বেজ ঢালাইসহ আনুষঙ্গিক নির্মাণকাজ করেছেন। ওই সময় অভিযোগ করলেও পৌর কর্তৃপক্ষ কোনো গুরুত্ব দেয়নি, বরং বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়েছে।

পৌর বাসিন্দাদের অভিযোগ, পানির প্রকল্পের কাজ শেষ হতে না হতেই বিভিন্ন স্থান থেকে পাইপ ফেটে পানি বের হচ্ছে। অনিয়মিত পানি সরবরাহ, দুর্গন্ধ ও কর্দমাক্ত পানি পাওয়া যাচ্ছে। এই পানি পান করা তো দূরের কথা, দৈনন্দিন কাজে ব্যবহারেরও প্রায় অনুপযোগী।

পৌর শহরের ২ নম্বর ওয়ার্ডের গৃহিণী মাহমুদা আক্তার বলেন, ‘সময়মতো আমরা পানি পাই না। যে কারণে বাসাবাড়ির কাজ করতে সমস্যা হয়। পানির জন্য অপেক্ষা করতে হয় কখন পানি আসবে। বাচ্চাকে নিয়ে স্কুলে গেলে এসে আর পানি পাওয়া যায় না। আমরা খুব সমস্যার ভেতরে আছি।’

নিউমার্কেট এলাকার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো: মাহিম আকন বলেন, ‘পৌরসভার পানি প্রকল্পের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ খাতের বরাদ্দ আত্মসাৎ করে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা একটি চরম অন্যায় এবং নিন্দনীয় অপরাধ।’

পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মো: হাফিজুর রহমান কাওসার বলেন, ‘প্রকল্পটি প্রায় পাঁচ বছর আগে শেষ হয়ে গেছে, আমি এখানে নতুন যোগ দিয়েছি। বিভিন্ন জায়গা থেকে খবর আসে পানিলানের পাইপ ফেটে যাওয়ার। আমরা চেষ্টা করছি নিম্নমানের পাইপগুলো মেরামত করার। লো-ভোল্টেজের কারণে সঠিক সময়ে পানি উত্তোলন করা সম্ভব হয় না, এজন্য পৌরবাসী ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।’

এ ব্যাপারে পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা অমল কৃষ্ণ সাহা বলেন, ‘বিদ্যুৎ সঙ্কটের কারণে গ্রাহকেরা সময়মতো পানি পাচ্ছেন না। পূর্বে নিম্নমানের কাজ হওয়ার কারণে বিভিন্ন সময় পাইপগুলো ফেটে যায়, সেগুলো সংস্কার করতে হচ্ছে।’