কচুয়ায় ৩ হত্যার রহস্য উদঘাটন : গ্রেফতার ৩

ভিকটিম আহাদের পরিবারের এক নারী সদস্যের সাথে আসামি জাহিদুল ইসলামের দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি উভয় পরিবার জেনে গেলে আহাদের মা মনিরা বেগমের সাথে জাহিদুল ইসলামের বাগবিতণ্ডা হয়।

রবিউল ইসলাম, বাগেরহাট

Location :

Bagerhat
গ্রেফতার আসামিরা
গ্রেফতার আসামিরা |নয়া দিগন্ত

বাগেরহাটের কচুয়ায় ট্রিপল মার্ডারের চাঞ্চল্যকর রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। পরকীয়া ও পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে এক খুন করতে এসে গত ৩ আগস্ট রাতে একই পরিবারের তিন সদস্যকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়। এই ঘটনায় জড়িত তিন আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের যৌথ টিম।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাগেরহাটের পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছির রিকাবদার এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য নিশ্চিত করেন। দুপুরে আটককৃতদের আদালতে পাঠানো হবে।

পুলিশ জানায়, একটি পরিবারের তিন সদস্য নিখোঁজ ও এলাকা থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়ানোর খবর পেয়ে বাগেরহাটের কচুয়া থানা পুলিশ চান্দেরখোলা এলাকায় একটি বাড়িতে যান। সেখানে ওই দুর্গন্ধের কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে তিনটি লাশ উদ্ধার করেন। গত ৩ আগস্ট দিবাগত রাতে একই পরিবারের তিন সদস্যকে হত্যা করা হয় বলে প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করেন। ঘটনার পরদিন ৪ আগস্ট কচুয়া থানা পুলিশ নিহতদের সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বাগেরহাট সদর হাসপাতালে পাঠায় এবং থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়।

ঘটনার রহস্য উন্মোচনে কাজ শুরু করে বাগেরহাট জেলা ডিবি পুলিশ ও কচুয়া থানা পুলিশের চৌকস টিম। তদন্তের ধারাবাহিকতায় গত ১৩ আগস্ট ঘটনার সাথে জড়িত মূল আসামি জাহিদুল ইসলামকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এবং আধুনিক তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় পরবর্তীতে আসাদুল শেখ ও মো: আরিফ হাওলাদার নামে আরো দুই আসামিকে নিজ নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃত আসামিরা হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।

পুলিশ জানায়, ভিকটিম আহাদের পরিবারের এক নারী সদস্যের সাথে আসামি জাহিদুল ইসলামের দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি উভয় পরিবার জেনে গেলে আহাদের মা মনিরা বেগমের সাথে জাহিদুল ইসলামের বাগবিতণ্ডা হয়। এছাড়া আসামি জাহিদুল ইসলামের স্ত্রীর সাথেও ভিকটিমদের পারিবারিক দ্বন্দ্ব চলছিল।

এরই জের ধরে জাহিদুল ইসলামের পরিকল্পনায় অন্য আসামিদের সহযোগিতায় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়।

অভিযানকালে আসামি আসাদুলের বসতঘর থেকে ভিকটিম আহাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন ও চার্জার উদ্ধার করে পুলিশ।

বাগেরহাট পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকবদার জানান, আটককৃত আসামিদের নিকট থেকে উদ্ধারকৃত মোবাইল উদ্ধারের ঘটনা ও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা জানায়, তারা মূলত একটি পরকীয়া প্রেমের ঘটনা জানাজানি হলে ভিকটিম আহাদকে মারতে এসে ছিল। পরে সেই ঘটনা দেখে ফেলায় একে একে তিনটি হত্যার ঘটনা ঘটে।

আজ রোববার দুপুরে আটককৃতদের পুলিশ আদালতে প্রেরণ করবে বলে জানান।