শহীদ বাদশার স্ত্রী

আন্দোলনের পর কেউ কেউ মন্ত্রী হলো, স্বামীকে হারিয়ে আমি কি পেলাম?

‘আমার ছোট ভাই বাসের ড্রাইভার ছিল। কাজের জায়গায় হেঁটে যাওয়ার সময় গুলিতে প্রাণ গেল তার। ওর তো কোনো অপরাধ ছিল না!’

‎মঠবাড়িয়া (পিরোজপুর) সংবাদদাতা

Location :

Pirojpur
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে নিহত বাসচালক শহীদ আবু জাফর ওরফে বাদশা
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে নিহত বাসচালক শহীদ আবু জাফর ওরফে বাদশা |নয়া দিগন্ত

‘বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে সরকার পতন হলো, সবাই সবকিছু ফিরে পেল। কেউ কেউ মন্ত্রী-মিনিস্টার হলো। আমার স্বামীকে হারিয়ে আমি কি পেলাম?’— কথাগুলো বলছিলেন পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার বাসিন্দা ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে পুলিশের গুলিতে নিহত বাসচালক শহীদ আবু জাফর ওরফে বাদশার (৪৯) স্ত্রী হাসিনা বেগম।

তিনি আরো বলেন, ‘পরিবারের একমাত্র আয়ের মানুষটা নেই। এখন ছেলে-মেয়ে নিয়ে আমাদের কষ্টে দিন কাটছে। সরকারের কাছে দাবি জানাই, সরকার যেন আমাদের কিছু একটা ব্যবস্থা করে দেয়।’

নিহত আবু জাফর ওরফে বাদশার বাড়ি পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলার ছোট মাছুয়া গ্রামে। সম্প্রতি তার বাড়িতে গিয়ে স্বজনদের সাথে কথা বললে জানা যায় হৃদয়বিদারক এই ঘটনার কথা। বৃদ্ধা মা, স্ত্রী ও তিন ছেলেকে নিয়ে শ্যামলী পরিবহনের চালক আবু জাফরের সংসার চলত। পৈতৃক ভিটেমাটি ছাড়া এই পরিবারের আর কোনো সম্বল নেই।

পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম মানুষকে হারিয়ে এখন পুরো পরিবারটি দিশেহারা। শহীদ বাদশার মা সেতারা বেগম ছেলের কথা উঠলেই হাউমাউ করে কেঁদে উঠছেন, আর স্বামী হারিয়ে স্তব্ধ হয়ে গেছেন স্ত্রী হাসিনা বেগম। তিন সন্তানকে নিয়ে আর্থিক সঙ্কটে দিন পার করছেন তিনি। কখনো খেয়ে, কখনো না খেয়ে দিন কাটছে তাদের।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ১৭ জুলাই সন্ধ্যায় মঠবাড়িয়া থেকে শ্যামলী পরিবহনের বাস নিয়ে ঢাকায় যান জাফর। পরদিন (১৮ জুলাই) বিকেলে কাউন্টার থেকে তাকে কাজে যোগ দিতে ফোন করা হয়। সন্ধ্যা ৭টার দিকে ঢাকার বাসা থেকে হেঁটে কাউন্টারে যাওয়ার পথে গোলাপবাগ এলাকায় পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষের মধ্যে পড়েন তিনি। এ সময় বুলেট এসে তার গলা ও বুকে বিদ্ধ হলে তিনি রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন।

পথচারীরা তাকে উদ্ধার করে মুগদা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরে এক পথচারী নারীর ফোনে জাফরের মৃত্যুর খবর জানতে পারে তার পরিবার। পরদিন ১৯ জুলাই রাতে গ্রামের বাড়িতে তার দাফন সম্পন্ন হয়।

নিহত বাসচালক শহীদ আবু জাফর ওরফে বাদশার বড় ভাই বেলায়েত হাওলাদার বলেন, ‘আমার ছোট ভাই বাসের ড্রাইভার ছিল। কাজের জায়গায় হেঁটে যাওয়ার সময় গুলিতে প্রাণ গেল তার। ওর তো কোনো অপরাধ ছিল না!’— কথাগুলো বলতে বলতে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন।