সাবেক মন্ত্রী ও তৎকালীন আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত হত্যাপ্রচেষ্টার আলোচিত মামলায় প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ও জাতীয় সংসদের হুইপ জি কে গউছসহ নয়জনকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।
এছাড়া সৈয়দ নাঈম আহমদ আরিফ নামে এক আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে। তিনি জেলহাজতে রয়েছেন।
মামলার মোট ১৩ জন আসামির মধ্যে মুফতি হান্নানসহ তিনজন আসামি আগেই মারা যান। জীবিত ১০ জনের রায় ঘোষণা করেন বিচারক।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুর দেড়টার দিকে সিলেটের বিভাগীয় দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার এই মামলার রায় ঘোষণা করেন।
এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন বিবাদী পক্ষের আইনজীবী আ্যডভোকেট বোরহান উদ্দিন।
রায় ঘোষণাকালে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, লুৎফুজ্জামান বাবর ও জি কে গউছ আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এ সময় আইনজীবী ছাড়াও বিপুল সংখ্যক দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ আদালত পাড়ায় উপস্থিত ছিলেন। এ উপলক্ষে আদালত পাড়ায় নিরাপত্তাও জোরদার করা হয়।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০০৪ সালের ২১ জুন সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের নির্বাচনী এলাকা সুনামগঞ্জের দিরাই বাজারে একটি রাজনৈতিক সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। সেদিন সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দিচ্ছিলেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। গ্রেনেড বিস্ফোরণে যুবলীগের এক কর্মী ঘটনাস্থলে নিহত ও ২৯ জন আহত হন। হামলায় অল্পের জন্য রক্ষা পান সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। ওই ঘটনায় দিরাই থানার এসআই হেলাল উদ্দিন অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
২০২০ সালের ২২ অক্টোবর সুরঞ্জিত সেনের সমাবেশে গ্রেনেড হামলার দু’টি মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, তৎকালীন সিলেট সিটি মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, হবিগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র জি কে গউছসহ ১৩ জনকে আসামি করে অভিযোগ গঠন করা হয়। মামলায় ১২৩ জন সাক্ষী ছিলেন।
মামলার রায় ঘোষণার পর সন্তোষ প্রকাশ করে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, এটা ছিল একটা রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রমূলক ও হয়রানিমূলক মিথ্যা মামলা। তিনি আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া আদায় করে বলেন, এই মামলার জন্য বাদির উপযুক্ত শাস্তি হওয়া উচিত।
রায়ের পর আদালত পাড়ায় বিএনপির দলীয় নেতাকর্মী ও অনেক সাধারণ মানুষকেও আনন্দ উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা যায়।



