নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে টাকাসহ আটক হয়ে পুলিশি হেফাজতে থাকা ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াত আমির বেলাল উদ্দিন প্রধানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা হৃদরোগ ইনস্টিটিউট হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে। তার কাছ থেকে জব্দ করা টাকা ইলেকশন ইনকোয়ারি টিমের কাছে জমা আছে। ফেরত দেয়ার ব্যাপারে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
বুধবার ( ১১ ফেব্রুয়ারি) রাত পৌনে ১২টায় ঢাকা হৃদরোগ ইনস্টিটিউট হাসপাতালে রেফার্ড করার পর অ্যাম্বুলেন্সে করে তিনি হাসপাতাল ত্যাগ করেন।
হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান জানান, তার পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফলাফল হাতে পাওয়ার পর মেডিক্যাল বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বেলাল উদ্দিন প্রধানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে রেফার্ড করা হয়েছে। এরপর তিনি একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে হাসপাতাল ত্যাগ করেন।
এর আগে এর বুধবার বিকেল পৌনে চারটায় তাকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।কার্ডিওলজি বিভাগের ১ নম্বর বেডে তাকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এর আগে তিনি নীলফামারীর সৈয়দপুর হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। বুধবার সকাল ১১টার দিকে ইউএস বাংলার একটি ফ্লাইটে তিনি সৈয়দপুরে অবতরণ করলে তাকে একটি ব্যাগ ভর্তি টাকাসহ হেফাজতে নেয় পুলিশ। এ সময় জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, ওই ব্যাগে ৫০ লাখেরও বেশি টাকা আছে যা তার গার্মেন্টস ব্যবসার। এদিকে শাহজালাল বিমান বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক জানিয়েছেন কাস্টমসের অনাপত্তি থাকায় তাকে ওই টাকা ভর্তি ব্যাগ নিয়ে অভ্যন্তরীণ রুটে পরিবহনের অনুমতি দেয়া হয়েছিল।
রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের প্রধান হরিপদরাস হরিপদ দাস জানিয়েছেন, বুকে ব্যথা নিয়ে তিনি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তার ইসিজিতে সমস্যা হয়েছে। তিনি ডায়াবেটিকসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত। পরীক্ষার নিরীক্ষা শেষে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার করা হয়েছে।
তার চিকিৎসায় থাকা রংপুর কমিউনিটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগের অধ্যাপক ডাক্তার আজহারুল ইসলাম জানিয়েছেন, তিনি শংক্রামুক্ত না হওয়ায় তাকে মেডিক্যাল বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঢাকায় রেফার্ড করা হয়েছে। ঢাকায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি হাসপাতাল ছেড়েছেন।
এদিকে সৈয়দপুর থানার ওসি রেজাউল করিম রাত সোয়া ১২টায় জানিয়েছেন, বেলালউদ্দিন প্রধানের কাছ থেকে জব্দ করা চুয়াত্তর লাখ টাকা জুডিশিয়াল ইনকয়ারি টিম থানায় হস্তান্তর করেছে। আমরা এ বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান করছি। এরপর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। এখনো ওই টাকা তাকে ফেরত দেয়া হয়নি।
নীলফামারী পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন প্রাপ্ত টাকা এবং তার উপস্থাপিত নথিপত্র যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এরপর এ বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।



