কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার ভুন্দুরচর সীমান্তের নোম্যান্সল্যান্ডে টানা ১৩ দিন ধরে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন তিন যুবক। স্থানীয়দের দাবি, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) তাদের বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করলে বিজিবি বাধা দেয়। এরপর থেকেই তারা দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর নজরদারির মধ্যে সীমান্তবর্তী নোম্যান্সল্যান্ডে অবস্থান করছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ১৪ জুন ভোরে ভারতের মানকারচর সোনারপাড়া বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা ১০৬৬ নম্বর সীমান্ত পিলারসংলগ্ন এলাকায় তিন যুবককে বাংলাদেশি পরিচয়ে নোম্যান্সল্যান্ডে নিয়ে আসে। অভিযোগ রয়েছে, আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন উপেক্ষা করে তাদের বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হলে রৌমারী উপজেলার হিজলামারী বিজিবি ক্যাম্পের টহলরত সদস্যরা তা প্রতিহত করেন।
শুক্রবার (২৬ জুন) সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, তিন যুবক সীমান্তসংলগ্ন ঝোপঝাড়ের পাশে ঘাসের ওপর প্লাস্টিক বিছিয়ে অবস্থান করছেন। ভারত থেকে নেমে আসা কালো নদীর তীরবর্তী ওই এলাকায় টানা বৃষ্টি, ঝড় ও তীব্র রোদের মধ্যে তাদের দিন কাটছে চরম দুর্ভোগে।
ভুক্তভোগীরা জানান, তারা খাদ্য, বিশুদ্ধ পানীয় জল, চিকিৎসাসেবা ও স্যানিটেশন সুবিধার সংকটে রয়েছেন। দীর্ঘদিন খোলা আকাশের নিচে থাকায় তারা শারীরিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছেন। জ্বর, সর্দি-কাশিসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পাচ্ছেন না। দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কঠোর নজরদারির কারণে তারা কোথাও যেতে বা স্বাভাবিকভাবে চলাচলও করতে পারছেন না।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, মানবিক বিবেচনায় দ্রুত বাংলাদেশ ও ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মধ্যে আলোচনা করে এ সঙ্কটের সমাধান করা প্রয়োজন। তাদের ভাষ্য, সীমান্তের নোম্যান্সল্যান্ডে দিনের পর দিন মানুষকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে রাখা কোনোভাবেই মানবিক নয়।
এ বিষয়ে বিজিবি কিংবা বিএসএফের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত সমন্বয়ের মাধ্যমে তিন যুবকের বিষয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে এবং তাদের মানবিক সঙ্কটের অবসান ঘটাবে।



