বড়াইগ্রামে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী ঈদগাহ দখল চেষ্টার প্রতিবাদে মানববন্ধন

বক্তারা অভিযোগ করেন, বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে স্থানীয় আব্দুল জলিল মাঝি ও আব্দুল করিম মাঝি জমিটি তাদের বলে দাবি করে ঈদগাহ মাঠে নামাজ পড়তে নিষেধ করেন। তারা ঈদগাহ পরিচালনার সাথে জড়িতদের নামে মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন।

বড়াইগ্রাম (নাটোর) সংবাদদাতা

Location :

Baraigram
ঈদগাহ মাঠ দখল চেষ্টার প্রতিবাদে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে স্থানীয় হাজারো মানুষ অংশ নেন
ঈদগাহ মাঠ দখল চেষ্টার প্রতিবাদে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে স্থানীয় হাজারো মানুষ অংশ নেন |নয়া দিগন্ত

নাটোরের বড়াইগ্রামে শত বছরের প্রাচীন ঈদগাহ অবৈধভাবে দখল চেষ্টার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) উপজেলার ভান্ডারদহ পূর্বপাড়া পিরপাল খোদাখানা কেন্দ্রীয় ঈদগাহ সংলগ্ন সড়কে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয় হাজারো মানুষ মানববন্ধনে অংশ নেন।

মানববন্ধনে ঈদগাহ পরিচালনা কমিটির সভাপতি আব্দুল লতিফ খাঁ, সম্পাদক রওশন আলম, সাবেক সভাপতি লুৎফর রহমান মণ্ডল, ব্যাংকার ফজলুর রহমান, সমাজসেবক আব্দুর রহমান মাঝি, খোরশেদ আলম ও মাওলানা রেজাউল করিম, ভান্ডারদহ উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি কাজী মাসুদ রানা ও চান্দাই ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক খায়রুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন।

এ সময় বক্তারা বলেন, ১৯২০ সালে রাজা প্রমদানাথ রায় বাহাদুর ভান্ডারদহ মৌজার ৯৬৯ নম্বর হাল দাগের ৭৯ শতাংশ জমি পিরপাল খোদাখানা ঈদগাহের নামে দান করেন। এরপর থেকে স্থানীয় মুসল্লীরা এখানে প্রতিবছর ঈদের নামাজ পড়ে আসছেন। পরে ১৯৫১ সালে মিম্বার নির্মাণের মাধ্যমে ঈদগাহের প্রথম অবকাঠামো তৈরি করা হয়। পর্যায়ক্রমে ঈদগাহ মাঠের মেঝে পাকাকরণসহ চারপাশে সীমানা প্রাচীর তৈরি করা হয়।

বক্তারা অভিযোগ করেন, বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে স্থানীয় আব্দুল জলিল মাঝি ও আব্দুল করিম মাঝি জমিটি তাদের বলে দাবি করে ঈদগাহ মাঠে নামাজ পড়তে নিষেধ করেন। তারা ঈদগাহ পরিচালনার সাথে জড়িতদের নামে মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন।

তারা বলেন, জালিয়াতির মাধ্যমে কিছু কাগজপত্র তৈরি করে অভিযুক্তরা এ জমির দখল নিতে চাচ্ছেন। এ ঘটনায় গ্রামবাসীদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধানে স্থানীয়রা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

ঈদগাহ মাঠ দখল চেষ্টার অভিযোগের বিষয়ে আব্দুল জলিল মাঝি বলেন, সম্প্রতি আমরা খোঁজ নিয়ে জেনেছি, এ জমি আমাদের। সেইজন্য আমরা আদালতে মামলা করেছি। আদালতেই বিষয়টি নিষ্পত্তি হবে।