রংপুরের মিঠাপুকুরে এক ব্যবসায়ী পরিবার হামলার শিকার হওয়ার পর প্রকৃত ভুক্তভোগীদের প্রতিকার না দিয়ে পুলিশ উল্টো অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী, চলমান এসএসসি পরীক্ষার্থী এবং এক নৈশপ্রহরীর বিরুদ্ধে মামলা নথিভুক্ত করেছে। তদন্ত ছাড়াই এ মামলা রেকর্ড করায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার পশ্চিম তিলকপাড়া গ্রামের ভাংড়ি ব্যবসায়ী নজরুল ইসলামের নাতি ও তালিমগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র মো: জিহাদ ইসলাম (১২) সাইকেলে তালিমগঞ্জ বাজারে যাচ্ছিল। পথে অভিযুক্ত জাহিদ মিয়া কর্তৃক এক অপরিচিত মেয়েকে উত্যক্ত করার প্রতিবাদ করলে জাহিদ তাকে মারধর করে। বিকেলে ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম তার ছেলে শিমুল রানা (১৬) ও ভাতিজাসহ বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে গেলে অভিযুক্ত জাহিদ, সেরাজুল, নওশা, হেলাল ও মেহেদী হাসানসহ ১০ থেকে ১২ জন দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা শিমুল রানাকে শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা করে এবং তার পকেটে থাকা ব্যবসার ১ লাখ ৫ হাজার টাকা ও একটি স্মার্টফোন ছিনিয়ে নেয়। গুরুতর আহত শিমুল রানাকে তাৎক্ষণিক মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়। পরে ভুক্তভোগী নজরুল থানায় অভিযোগ দিলেও পুলিশ উল্টা অভিযুক্ত মেহেদী হাসানের করা একটি পাল্টা মামলা রেকর্ড করেন। ওই মামলায় ১২ বছর বয়সী শিশু জিহাদকে আসামি করা হয়েছে। এছাড়া গত মঙ্গলবার থেকে চলমান এসএসসি পরীক্ষার অংশ
গ্রহণকারী শিক্ষার্থী রিফাত এবং ঘটনার সময় কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা তালিমগঞ্জ বাজারের নৈশপ্রহরী মোকসেদকেও আসামি করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করে বলেন, কোনো ধরনের প্রাথমিক তদন্ত ছাড়াই পুলিশ একজন শিশু এবং এসএসসি পরীক্ষার্থীর নামে মামলা নিল কিভাবে? রিফাতের পরীক্ষা চলছে, এই মিথ্যা মামলার কারণে তার পুরো শিক্ষা জীবন ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।
তারা আরো জানান, নৈশপ্রহরী মোকসেদ ঘটনার সময় ঘটনাস্থলেই ছিলেন না।
ভুক্তভোগী নজরুল ইসলাম বলেন, আমরা হামলার শিকার হয়ে বিচার চাইতে থানায় গেলাম কিন্তু পুলিশ আমাদের অভিযোগ গুরুত্ব না দিয়ে উল্টা আমার মাসুম নাতি ও পরীক্ষার্থী রিফাতের নামে মামলা নিল। আমরা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
এদিকে অভিযুক্ত মেহেদী হাসানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
মিঠাপুকুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: নুরুজ্জামান বলেন, ঘটনার সাথে জড়িত না থাকলে আদালতে চূড়ান্ত চার্জশিট পাঠানো হবে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে। অহেতুক হয়রানি করা হবে না।



