সাটুরিয়ায় অসময়ে মাচা পদ্ধতিতে তরমুজ চাষে ফিরোজের বাজিমাত

কৃষক ফিরোজ বলেন, ‘কৃষি অফিসের উৎসাহ ও সঠিক দিকনির্দেশনা না পেলে অসময়ে তরমুজ চাষের সাহস পেতাম না। গাছে যেমন ফলন এসেছে, তাতে বাজারে চড়া দাম পাব বলে আশা করছি।’

সাটুরিয়া (মানিকগঞ্জ) সংবাদদাতা

Location :

Saturia
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের প্রদর্শনী ক্ষেত পরিদর্শন
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের প্রদর্শনী ক্ষেত পরিদর্শন |নয়া দিগন্ত

ঐতিহ্যগত কৃষির গণ্ডি পেরিয়ে আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় অসময়ে তরমুজ চাষ করে সফলতার মুখ দেখছেন মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার কৃষক মো: ফিরোজ হোসেন। ঢাকা অঞ্চলের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় উপজেলা কৃষি অফিসের সার্বিক সহায়তায় বরুণ্ডি গ্রামে এখন শোভা পাচ্ছে অসময়ের এই বিষমুক্ত মাচা তরমুজ।

উপজেলার ধানকোড়া ইউনিয়নের বরুণ্ডি গ্রামের বাদশা মিয়ার ছেলে ফিরোজ হোসেন তার ২০ শতক জমিতে বাংলা লিংক (হাইব্রিড) জাতের তরমুজ চাষ শুরু করেন। মাচা পদ্ধতিতে আবাদ করা তরমুজের বাম্পার ফলন এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সাটুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ তানিয়া তাবাসসুম প্রদর্শনী ক্ষেতটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন ও ফসলের নিবিড় তদারকি নিশ্চিত করেন।

ক্ষেতের অগ্রগতি দেখে সন্তোষ প্রকাশ করে কৃষক ফিরোজ বলেন, ‘কৃষি অফিসের উৎসাহ ও সঠিক দিকনির্দেশনা না পেলে অসময়ে তরমুজ চাষের সাহস পেতাম না। গাছে যেমন ফলন এসেছে, তাতে বাজারে চড়া দাম পাব বলে আশা করছি।’

মাঠপর্যায়ে নিয়মিত কারিগরি সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছেন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো: সোহেল রানা। তিনি জানান, ফসলের সুরক্ষা ও মান বাড়াতে সার্বিক তদারকি চালানো হচ্ছে।

অসময়ে উচ্চমূল্যের এ ফসল চাষ সম্পর্কে সাটুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ তানিয়া তাবাসসুম বলেন, ‘সনাতন পদ্ধতি ছেড়ে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে অসময়ে ফসল ফলানো কৃষকদের জন্য অত্যন্ত লাভজনক। আমাদের মূল লক্ষ্যই হলো নতুন প্রযুক্তি ও লাভজনক ফসল মাঠপর্যায়ে ছড়িয়ে দেয়া। ফিরোজ হোসেনের এই সাফল্য দেখে এলাকার অন্য কৃষকরাও অসময়ে তরমুজসহ অন্য সবজি চাষে উৎসাহিত হবেন।’

আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারে অসময়ের এই তরমুজ চাষ সাটুরিয়ার স্থানীয় কৃষকদের অর্থনৈতিক চিত্র বদলে দিতে এক নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে।