নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সন্ত্রাসীদের হামলায় আহত ফল ব্যবসায়ী রনি মিয়া (৩০) মারা গেছেন।
শনিবার (২৩ মে) দুপুরের দিকে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তার।
তিনি সিলেট জেলার ফেঞ্চুগঞ্জ থানার গিলাচরা গ্রামের আয়েত আলীর ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে তারাবো উত্তরপাড়ার দায়েন মোল্লার বাড়ির ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাস করে আসছিলেন এবং ফলের ব্যবসা করতেন।
পুলিশ জানায়, রনি মিয়া গত ২১ মে ভোরে রূপগঞ্জের ভুলতা গাউছিয়া ফলের আড়ত থেকে ফল কিনতে যাওয়ার পথে তারাবো উত্তরপাড়া মফিজুল ভুঁইয়ার বাড়ির সামনে সন্ত্রাসীরা তার ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা রামদা, চাপাতি, ছুরি ও লোহার রডসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তার পথ রোধ করে উপর্যুপরি কুপিয়ে তার দুই হাত, মাথা ও গলায় মারাত্মক জখম করে। এ সময় সন্ত্রাসীরা তার সাথে থাকা ফল কেনার নগদ ৬০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। এক পর্যায়ে রনি মিয়ার ডাক চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসলে সন্ত্রাসীরা তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে পালিয়ে যায়।
পরে স্থানীয়রা রনি মিয়াকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ও পরে রাজধানীর মোহাম্মদপুর প্রাইম হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার দুপুরে তার মৃত্যু হয়।
স্বামীর মৃত্যুতে রনি মিয়ার স্ত্রী রাশিদা বেগম বারবার মূর্ছা যাচ্ছিলেন।
এ সময় রাশিদা বেগম জানান, তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। বলেন, ‘পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী স্বামীর হত্যার ঘটনায় ছেলে-মেয়ে এতিম হয়ে গেল। কে নেবে তাদের ভরণ-পোষণের দায়িত্ব? কে নেবে ছেলে-মেয়ের ভবিষ্যৎ গড়ার দায়িত্ব?’
তিনি দাবি জানান, তার স্বামীর হত্যাকারীদের যেন দ্রুত গ্রেফতার করে শাস্তির আওতায় আনা হয়।
এসব কথা বলে তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।
এ ব্যাপারে শ্রাবণ ওরফে কুত্তা শ্রাবণ (২৩), সিয়াম (২৪), শরিফ মিয়া (৩০), সূর্য (১৯), জিসান মিয়া (২১), শ্রাবণ মিয়া (২৫) ও জয় আহমেদের (২৯) বিরুদ্ধে অজ্ঞাত আরো পাঁচজনের বিরুদ্ধে রূপগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করেন ব্যবসায়ী রনি মিয়ার বড় বোন নাছরিন আক্তার।
রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ এইচ এম সালাউদ্দিন বলেন, ‘ফল ব্যবসায়ী রনি মিয়াকে হত্যার ঘটনায় রূপগঞ্জ থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশ তৎপর রয়েছে।’



