ছাতকে ব্যবসায়ীর কাছ থেকে অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ

‘মোবাইলফোনে তারা আমাকে হুমকি দিয়ে বলেছে, ভবিষ্যতে আমি বা আমার প্রতিষ্ঠানের কেউ টাকা চাইলে আমাকে হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলবে। এতে আমি বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’

ছাতক (সুনামগঞ্জ) সংবাদদাতা

Location :

Chhatak
অভিযুক্ত
অভিযুক্ত |নয়া দিগন্ত

ছাতক উপজেলায় এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ব্যবসার নামে প্রায় অর্ধকোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামের মরহুম ফরিদ উদ্দিনের ছেলে ব্যবসায়ী হাজী বুলবুল আহমেদ ছাতক পৌর শহরের পুরাতন কাস্টম রোডের একটি বাণিজ্যিক ভবনের দ্বিতীয় তলায় মেসার্স সিয়াম এন্টারপ্রাইজ নামে বালি-পাথরের ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। ব্যবসার সুবাদে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার হলহলিয়া চরগাঁও গ্রামের আলী আহমদের ছেলে মাহমুদ হাসান ও সিলেটের টিলাগড় কালাশীল মহল্লার মিজানুর রহমানের ছেলে মুমিনুর রহমান পাটোয়ারীর সাথে তার পরিচয় হয়।

একপর্যায়ে তারা ব্যবসায় অংশীদার হওয়ার প্রস্তাব দিলে সরল বিশ্বাসে এতে সম্মতি দেন হাজী বুলবুল আহমেদ। পরে তারা দাবি করেন, সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার লোভাছড়া এলাকায় তাদের মালিকানাধীন কয়েকটি পাথরের স্তূপ রয়েছে। বিষয়টি যাচাই করতে হাজী বুলবুল আহমেদের ছোট ভাই মছরু মিয়াকে নিয়ে তারা পাথরের স্তূপ পরিদর্শন করেন এবং সেগুলো নিজেদের মালিকানাধীন বলে দাবি করেন।

তাদের কথায় বিশ্বাস করে পাথর ক্রয়ের বিষয়ে আলোচনা শেষে অগ্রিম হিসেবে গত বছরের ৮ মে হাজী বুলবুল আহমেদের প্রতিষ্ঠান সিয়াম এন্টারপ্রাইজ-এর উত্তরা ব্যাংক ছাতক শাখার হিসাব থেকে মাহমুদ হাসানের প্রতিষ্ঠান মেসার্স মায়মুনা এন্টারপ্রাইজ-এর পূবালী ব্যাংকের হিসাব-এ আরটিএসের মাধ্যমে ১০ লাখ টাকা পাঠানো হয়। এছাড়া গত বছরের ২৬ মে মুমিনুর রহমান পাটোয়ারীকে আরো তিন লাখ টাকা প্রদান করা হয়।

পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, যে পাথরের স্তূপ দেখানো হয়েছিল তার প্রকৃত মালিক অন্য ব্যক্তি। অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন সময় নানা অজুহাতে প্রতারক চক্রটি হাজী বুলবুল আহমেদের কাছ থেকে প্রায় ৪২ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। পরে টাকা ফেরত চাইলে অভিযুক্তরা তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয় বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী।

হাজী বুলবুল আহমেদ বলেন, ‘মোবাইলফোনে তারা আমাকে হুমকি দিয়ে বলেছে, ভবিষ্যতে আমি বা আমার প্রতিষ্ঠানের কেউ টাকা চাইলে আমাকে হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলবে। এতে আমি বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।’

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মাহমুদ হাসান বলেন, ‘আমার পাওনা টাকা নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ঘুরাচ্ছেন। নানা সময় সালিশের ব্যবস্থা করা হলেও তিনি উপস্থিত হন না।’

অন্য অভিযুক্ত মুমিনুর রহমান পাটোয়ারীর মোবাইলফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

ছাতক থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, ‘এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।’