নান্দনিকতায় বদলে যাওয়া ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক এখন যেন এক ঝুঁকিপূর্ণ দৃশ্যপটে পরিণত হয়েছে। সড়কের পাশজুড়ে ফুটে থাকা রঙিন ফুল দেখতে ও ছবি তুলতে প্রতিদিনই সেখানে মানুষের ভিড় বাড়ছে। এতে দেশের অন্যতম ব্যস্ত এই মহাসড়কে দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
সম্প্রতি নান্দনিকতায় বদলে যাচ্ছে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক শিরোনামে ছবিসহ একটি প্রতিবেদন দৈনিক নয়া দিগন্তে প্রকাশিত হওয়ার পর সড়কের পাশের ফুলের দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর থেকেই প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে এবং ছবি তুলতে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
প্রতিদিন বিকেলে পরিবার-পরিজন ও বন্ধুদের নিয়ে অনেকে হোতাপাড়া এলাকায় মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। অনেকেই আবার গাড়ি থামিয়ে সরাসরি সড়কের উপর নেমে ছবি তুলছেন। এতে দ্রুতগতির যানবাহন চলাচলের মধ্যে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই ফুলে ঘেরা এই দৃশ্যের সাথে জাপানের রাস্তার তুলনা করছেন। তবে বাস্তবতা হলো, এই মহাসড়ক দিয়ে প্রতিনিয়ত বাস, ট্রাকসহ বিভিন্ন ভারী যানবাহন দ্রুতগতিতে চলাচল করে। এর মধ্যে সড়কের পাশে মানুষের জটলা তৈরি হওয়া চালকদের জন্যও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও সচেতন নাগরিকদের মতে, সৌন্দর্য উপভোগ করতে এসে অনেকেই নিরাপত্তার বিষয়টি উপেক্ষা করছেন। এতে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
মাহবুবুর রহমান নামে এক ব্যক্তি বলেন, ‘ফুল দেখতে মানুষ আসবে, এটা স্বাভাবিক। কিন্তু মহাসড়কের মতো ঝুঁকিপূর্ণ জায়গায় দাঁড়িয়ে ছবি তোলা খুবই বিপজ্জনক। এতে যে কোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’
এক বাসচালক বলেন, ‘হঠাৎ করে সড়কের পাশে মানুষের ভিড় বা গাড়ি থামিয়ে ছবি তুলতে দেখলে গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। এতে চালক ও পথচারী দু’জনেরই ঝুঁকি বাড়ে।’
এ বিষয়ে হাইওয়ে পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, মহাসড়কে অযথা দাঁড়িয়ে থাকা বা ছবি তোলা নিরাপদ নয়। বিষয়টি নজরদারিতে রাখা হয়েছে। প্রয়োজন হলে টহল জোরদারসহ সচেতনতামূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে।



