একদিন মৃত্যুহীন থাকার পর সিলেটে হামের পরিস্থিতিতে আবারো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরো দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে ১১৫ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ফলে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩২১ জনে। এছাড়া নতুন করে আরো নয়জনের শরীরে নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরে বিভাগে নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৮৮ জনে। আর হাম ও উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৩৮ জন।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের সিলেট বিভাগীয় কার্যালয়ের পরিচালক ডা: মো: মাহবুবুল হক।
স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি হওয়া ১১৫ জনের মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৪৫, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৪৫, হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ১০, মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ১২ এবং সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে তিনজন রয়েছেন।
বর্তমানে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৩২১ জন। এর মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ১৫১, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১০০, রাজীব রাবেয়া মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ১৩, নর্থ ইস্ট হাসপাতালে পাঁচ, সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ৩৬, হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ১০ এবং মৌলভীবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ছয়জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের হিসাবে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৮ আগস্ট পর্যন্ত সিলেট বিভাগে নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন ৯৮৮ জন। এর মধ্যে সিলেটে ৩২০, হবিগঞ্জে ১৫৩, মৌলভীবাজারে ১৫৮ এবং সুনামগঞ্জে ৩৫৭ জন। শনাক্তের দিক থেকে সুনামগঞ্জে আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হওয়া দু’জনের মধ্যে ওসমানী হাসপাতালে মৃত্যুবরণকারী ছয় মাস বয়সী তাসমিন হবিগঞ্জের সদর উপজেলার এবং নয় মাস বয়সী তামিম সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার বাসিন্দা।
স্বাস্থ্য বিভাগের হিসাবে, চলতি বছরে হাম ও উপসর্গে মৃত্যু হওয়া ১৩৮ জনের মধ্যে নিশ্চিত হাম রোগে মৃত্যু হয়েছে ছয়জনের। বাকি ১৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে হামের উপসর্গ নিয়ে।
জেলাভিত্তিক হিসাবে এ পর্যন্ত সিলেটে ৫২, হবিগঞ্জে ১৮, মৌলভীবাজারে ১৩ এবং সুনামগঞ্জে ৫৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুর দিক থেকেও সুনামগঞ্জ বিভাগে সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে।



