কুমিল্লা নগরীর কাঁটাবিল এলাকায় মাদক কারবারিদের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে স্কুলছাত্র ইথান আহমেদ প্রেম গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় আরো তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে কুমিল্লা কোতোয়ালি থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৌহিদুল আনোয়ার এ তথ্য জানান।
গ্রেফতার তিনজন হলেন— আসিফ (২৬), আশিক (৩৫) ও ইমন (১৯)। তারা সবাই কাঁটাবিল এলাকার বাসিন্দা।
ওসি জানান, ইথানের বাবা ইউনুস মিয়ার দায়ের করা মামলায় তাদের গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে রোববার (২৮ জুন) ও সোমবার (২৯ জুন) তাদের গ্রেফতার করা হয়।
পুলিশ জানায়, এর আগে একই মামলায় শ্রাবণ নামে একজনকে গ্রেফতার করা হয়। তার কাছ থেকে একটি পিস্তল ও ছয় রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। শ্রাবণ ‘সব্বির গ্রুপ’-এর সদস্য, আর নতুন করে গ্রেফতার হওয়া তিনজন ‘অপু গ্রুপ’-এর সদস্য। এই দুই গ্রুপের সংঘর্ষের জেরেই ইথান গুলিবিদ্ধ হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার (২৪ জুন) রাতে কাঁটাবিল এলাকায় মাদক ব্যবসাকে কেন্দ্র করে অপু গ্রুপ ও সব্বির গ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এর প্রতিবাদে পরদিন বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে কাঁটাবিল রফিক উদ্দিন মেমোরিয়াল উচ্চ বিদ্যালয় ও কাঁটাবিল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে স্থানীয় বাসিন্দারা মাদকবিরোধী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মানববন্ধন চলাকালে অস্ত্রধারী একদল দুর্বৃত্ত আয়োজক ও অংশগ্রহণকারীদের বাড়িঘরে হামলা চালায় এবং এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। এতে পথচারী ও স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী ইথান আহমেদ প্রেম গুলিবিদ্ধসহ অন্তত সাতজন আহত হন।
টিফিনের বিরতিতে বাসায় ফেরার পথে ইথান গুলিবিদ্ধ হয়। বর্তমানে ইথান ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকদের মতে, তার ফুসফুসে গুলি লেগেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।



