প্রকৌশল ক্ষেত্রে বৈষম্য নিরসনের বিরুদ্ধে ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারীরা, প্রতিবাদে রুয়েটে বিক্ষোভ

গত ২৯ জানুয়ারি বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার ও ডিপ্লোমাধারীদের মধ্যকার পেশাগত বিরোধ নিরসনের লক্ষ্যে গঠিত ‘জাতীয় কমিটি’ ১০ গ্রেডে ১০০ শতাংশ ডিপ্লোমা কোটা বাতিল করে ৩৩ শতাংশ বিএসসি প্রকৌশলীদের জন্য সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেয়।

রুয়েট প্রতিনিধি
রুয়েটে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
রুয়েটে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ |নয়া দিগন্ত

বিএসসি ডিগ্রিধারী ও ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারীদের মধ্যকার পেশাগত বিরোধ নিরসনের লক্ষ্যে গঠিত ‘জাতীয় কমিটির’ সিদ্ধান্তে অবৈধ হস্তক্ষেপ, মন্ত্রণালয়ের সুপারিশ বাতিলের প্রতিবাদে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ মিছিল করেছে।

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) ‍দুপুর ১টার দিকে রুয়েট কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে ভদ্রা মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।

বিক্ষোভে অংশ নেয়া শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, গত ২৯ জানুয়ারি বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার ও ডিপ্লোমাধারীদের মধ্যকার পেশাগত বিরোধ নিরসনের লক্ষ্যে গঠিত ‘জাতীয় কমিটি’ ১০ গ্রেডে ১০০ শতাংশ ডিপ্লোমা কোটা বাতিল করে ৩৩ শতাংশ বিএসসি প্রকৌশলীদের জন্য সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত নেয়। এর পরদিন ৩০ জানুয়ারি ইন্সটিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশের (আইডিইবি) আহ্বায়ক কবির হোসেনের নেতৃত্বে ডিপ্লোমাধারীদের একটি অংশ মব সৃষ্টি করে এই সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করে এবং অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চালায়। যার ফলে জাতীয় কমিটি বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারদের জন্য ৩৩ শতাংশ পদ উন্মুক্ত করার সুপারিশ থেকে সরে আসে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত।

বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেন, এ ধরনের অরাজক কর্মসূচি ও মব সংস্কৃতির মাধ্যমে দেশের প্রকৌশল শিক্ষা, পেশাগত মর্যাদা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা চলছে, যা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না।

এ সময় ‘প্রকৌশলী অধিকার আন্দোলন-রুয়েট’-এর পক্ষ থেকে জাতীয় কমিটির অবস্থান পরিবর্তনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়। তারা অবিলম্বে জাতীয় কমিটির চূড়ান্ত সুপারিশ পুনর্বহাল, পেশাগত বিভাজন বন্ধ এবং দেশবিরোধী সকল ষড়যন্ত্র প্রতিহত করার দাবি জানান। পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ ও যৌক্তিক আন্দোলনের মাধ্যমে নিজেদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তারা।