বরগুনার পাথরঘাটায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পাল্টাপাল্টি মামলায় উভয় দলের ১১ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ ও নৌবাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত যৌথবাহিনী।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) যৌথবাহিনীর অভিযানে ১১ জনকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, শুক্রবার রাত থেকে শনিবার বেলা ১১টা পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে তাদেরকে আটক করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আচরণবিধি লঙন বিষয়ে সম্প্রতি পাথরঘাটায় বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা দেখা হয়। এ উত্তেজনার মধ্যে ১২ জানুয়ারি আচরণবিধি লঙ্ঘন নিয়ে বাগ্বিতণ্ডার সময় সদর ইউনিয়নের পাঁচ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের বায়তুলমাল সম্পাদক নাসির উদ্দিনের উপর হামলা করে তার পা ভেঙে দেয়ার অভিযোগ ওঠে বিএনপি কর্মী নুর আলমের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনার পরদিন, মঙ্গলবার বিকেলে একই বিষয়ে উপজেলার চরদুয়ানী ইউনিয়নের খলিফারহাটের চৌরাস্তায় উপজেলা বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সরোয়ার হোসেন ফারুক ও ছয় নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সেলিম বেপারীর সাথে জামায়াত নেতাদের বাগ্বিতণ্ডা হয়। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে প্রথমে হাতাহাতি ও পরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের চারজন আহত হন। এ ঘটনায় উভয় দল পাথরঘাটা থানায় মামলা করে।
মামলার পর, ১৬ জানুয়ারি রাত থেকে ১৭ জানুয়ারি বেলা ১১টা পর্যন্ত অভিযান চালিয়ে যৌথবাহিনী উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে পৌর জামায়াতের আমির মাওলানা বজলুর রহমান (৫০), রায়হানপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো: আবুল কালাম ওরফে গদি কালাম (৫৫), চরদুয়ানী ইউনিয়ন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি ওমরসানী (৩০), হৃদয় মোল্লা (১৯), ইমরান (১৮), এমদাদুল হক (৩০), মো: মুন্না (২৪), মো: নাসির চৌধুরী (৪৭), মো: আব্দুর রহমান, তোহা ইব্রাহিম (২৪), মো: মোস্তফা হাওলাদার (৫৩) ও মো: নাসির শেখকে (২৫) আটক করে।
এ বিষয়ে বরগুনা-২ আসনের জামায়াতের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক শামীম হাসান বলেন, ‘বিএনপির যেসব নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে তারা নির্বিঘ্নে চলাফেরা ও নির্বাচনী কার্যক্রম চালাচ্ছে, পুলিশ অজ্ঞাত কারণে তাদেরকে গ্রেফতার করছে না। অন্যদিকে বিনা কারণে জামায়াতের নেতাকর্মীদের হয়রানি করছে।’
তিনি পৌর জামায়াতের আমিরকে আটকের নিন্দা জানিয়ে পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) বিরুদ্ধে পক্ষপাতমূলক আচরণের অভিযোগ করেন।
তিনি বলেন, ‘দুই দলের মধ্যে ভারসাম্য তৈরির নামে জামায়াতের নিরীহ নেতাকর্মীদের আটক করা হচ্ছে। এসব নাটক বন্ধ করে প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেফতারের জন্য আমি প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’
উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক চৌধুরী মো: ফারুক বলেন, ‘রাতে যাদের আটক করা হয়েছে তাদের বেশির ভাগই নিরীহ পথচারী। যৌথবাহিনীর এমন আটকের ঘটনায় ভোটারদের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আমি মনে করি।’
তিনি বলেন, ‘এভাবে গণআটক বিএনপি সমর্থন করে না। আমি সন্দেহভাজন হিসেবে আটক ব্যক্তিদের দ্রুত ছেড়ে দেয়ার দাবি জানাচ্ছি।’



