২০২৪ সালের ৪ আগস্ট ফেনীর মহিপালে কলেজছাত্র মাহবুবুল হাসান মাসুম হত্যা মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা, সাবেক সড়ক মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, ফেনী-২ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারী, ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীসহ ১৭১ জনের নামে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।
বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেলে ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সদর আমলী আদালতের বিচারক মোহাম্মদ হাসান চার্জশিট আমলে নিয়ে এ আদেশ দেন।
২০২৫ সালের ৩১ জুলাই ১৭১ জনের বিরুদ্ধে ফেনী সদর আমলি আদালতে এ অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
মামলার বাদিপক্ষের আইনজীবী মেজবাহ উদ্দিন ভূঞা বলেন, মামলায় ১৫৬ জন এজাহারনামীয় ও অজ্ঞাত পরিচয় ৬৫ জনসহ ২২১ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। এরমধ্যে তদন্তে ঘটনায় সংশ্লিষ্টতা না থাকায় ১০ জনকে অব্যাহতি দেয়া হয়। ইতোমধ্যে ৫১ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া ফেনীতে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ঘটনায় ২২টি মামলা হয়েছে। তারমধ্যে সাতটি হত্যা ও ১৫টি হত্যাচেষ্টা মামলা। এসব মামলায় দু’ হাজার ১৯৯ জন এজাহারনামীয় ও আরো চার হাজার অজ্ঞাত পরিচয় আসামি রয়েছে। তাদের মধ্যে এক হাজারের বেশি আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারদের মধ্যে এখন পর্যন্ত ১১ জন আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জহির উদ্দিন মামুন বলেন, ‘২০২৪ সালের ৪ আগস্ট ফেনীর মহিপালে মাসুম হত্যাকাণ্ডে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারীকে সরাসরি নির্দেশদাতা হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে। মূলত পুলিশের বিভিন্ন তদন্তে যাদের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে তারাই চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। এখানে কে কোন রাজনৈতিক দলের তা বিবেচনা করা হয়নি।’
এর আগে, ২০২৪ বছরের ৪ আগস্ট মহিপালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক দফা দাবির অসহযোগ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন কলেজছাত্র মাহবুবুল হাসান মাসুম। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ৭ আগস্ট মৃত্যুবরণ করেন তিনি। মাসুম সোনাগাজী উপজেলার চরচান্দিয়া ইউনিয়নের তরাব পাটোয়ারী বাড়ির মরহুম মাওলানা নোমান হাসানের ছেলে। তিনি ছাগলনাইয়া আব্দুল হক চৌধুরী ডিগ্রি কলেজ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করেন।
এ ঘটনায় ওই বছরের ৪ সেপ্টেম্বর নিহতের ভাই মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান ১৬২ জনের নাম উল্লেখ, আরো ৪০০-৫০০ জনকে অজ্ঞাত পরিচয় আসামি করে ফেনী মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
এ মামলায় উল্লেখযোগ্য আসামিদের মধ্যে সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শুসেন চন্দ্র শীল, পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পৌর মেয়র নজরুল ইসলাম স্বপন মিয়াজী, ছাগলনাইয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মেজবাউল হায়দার চৌধুরী সোহেল, দাগনভূঞা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা যুবলীগের সভাপতি দিদারুল কবির রতন, পরশুরাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও পৌরসভার সাবেক মেয়র নিজাম উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী সাজেল, সোনাগাজী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান জহির উদ্দিন মাহমুদ লিপটন, যুবলীগ নেতা সাইফুল ইসলাম পিটু, জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি জিয়া উদ্দিন বাবলুর নাম রয়েছে।
উল্লেখ্য, ফেনীতে ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের ঘটনায় দায়ের ২২টি মামলার মধ্যে প্রথম কোনো মামলার চার্জশিট গ্রহণ করলেন আদালত।



