মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে স্কুল ফিডিং কার্যক্রম শুরুর পর থেকে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি। পড়াশোনায় ফিরেছে নতুন উদ্দীপনা। জেলার ১৯৩ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২৮ হাজার শিক্ষার্থী এ স্কুল ফিডিং কার্যক্রমের আওতায় এসেছে। প্রকল্পের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা পাচ্ছে শনি থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত দুপুরের নাস্তা। ফলে শিক্ষাক্ষেত্রে দেখা দিয়েছে ইতিবাচক পরিবর্তন।
উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয় ঘুরে দেখা যায়, সকাল থেকেই শিক্ষার্থীদের সরব উপস্থিতিতে মুখর হয়ে উঠেছে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ। স্কুল ফিডিং কার্যক্রমের আওতায় সপ্তাহভিত্তিক রুটিন অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে বিতরণ করা হচ্ছে বিস্কুট, কলা, রুটি, ডিম ও দুধ। পুষ্টিকর এ খাবার শিক্ষার্থীদের স্কুলমুখী করে তুলছে এবং তাদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
শিক্ষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, আগে অনেক শিক্ষার্থী খালি পেটে স্কুলে আসত, ফলে ক্লাসে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হতো। বর্তমানে টিফিন পাওয়ার ফলে শিক্ষার্থীরা আগ্রহ নিয়ে ক্লাসে অংশ নিচ্ছে ও তাদের শেখার আগ্রহও বৃদ্ধি পেয়েছে।
এ বিষয়ে কুলাউড়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ খোরশেদ আলম বলেন, ‘স্কুল ফিডিং কর্মসূচি শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় কুলাউড়ার ১৯৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের দেয়া হচ্ছে পুষ্টিকর খাবার। ইউএনও মহোদয়সহ প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ স্কুল ফিডিং কার্যক্রম মনিটরিং করছেন।’
তিনি আরো বলেন, ‘মৌলভীবাজার জেলার মধ্যে কুলাউড়া ও শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুষ্টিকর খাবার দেয়া হচ্ছে। কুলাউড়া উপজেলার ২৮ হাজার শিক্ষার্থী এ কার্যক্রমের আওতায় সুবিধা পাচ্ছে। এ কার্যক্রমের ফলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্কুলে আসার আগ্রহ বেড়েছে ও ঝরে পড়ার হার কমেছে।’
কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: মহিউদ্দিন বলেন, ‘স্কুল ফিডিং কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি ও শিক্ষার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এটি একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গঠনে সহায়ক হবে।’
স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের বক্তব্য, স্কুল ফিডিং কার্যক্রম সরকারের একটি যুগান্তরকারী পদক্ষেপ। তবে নিয়মিত ঠিকাদারের কার্যক্রম মনিটরিং করা, পণ্যের মান যাচাই, সিডিউল মোতাবেক সুষমবন্টন নিশ্চিত করা হলে স্কুল ফিডিং কার্যক্রমের সুফল পাবে কুলাউড়ার ২৮ হাজার ছোট ছোট শিক্ষার্থী।



