নিষেধাজ্ঞার ৩৬ দিন পার হলেও ভোলার লালমোহনের নয়টি ইউনিয়নের জেলেরা প্রথম কিস্তির মৎস্য ভিজিএফ চাল এখনো পাননি। ঈদুল ফিতরের আগে বরাদ্দকৃত জনপ্রতি ৮০ কেজি চাল বিতরণ করার কথা থাকলেও বিতরণ করেননি দায়িত্বপ্রাপ্তরা। উপজেলার লর্ডহার্ডিঞ্জ ও পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নে আংশিক চাল বিতরণ শুরু হলেও সমন্বয়হীনতার কারণে পুরো চাল বিতরণ করা হয়নি।
মার্চ ও এপ্রিল মাস মেঘনা-তেঁতুলিয়া নদীর মৎস্য অভয়ারণ্য এলাকায় সব ধরনের মাছ ধরা নিষিদ্ধ রয়েছে। প্রতিবছর ইলিশসহ অন্যান্য মাছের প্রজনন ও বংশবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সরকার এই দুই মাস সব প্রকার মাছ ধরা নিষিদ্ধ করে। এ সময় ইলিশ ধরা, বিক্রি, সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ থাকে। মাছ আহরণ, পরিবহন ও বিক্রিও আইনত দণ্ডনীয়। মৎস্য সম্পদ রক্ষায় এই উদ্যোগকে প্রয়োজনীয় মনে করলেও জেলেদের জন্য সময়টি কঠিন মুহূর্ত। জেলেরা এই দুই মাস কর্মহীন হয়ে পড়েন। এ সময় জেলেদের জন্য সরকার ৪০ কেজি করে চারবার ১৬০ কেজি চাল দিয়ে থাকে।
তবে এই বরাদ্দ নিয়ে জেলেদের মাঝে চরম ক্ষোভ থাকে। জেলেদের দাবি, তালিকাভুক্ত হয়েও প্রতিবছর অর্ধেকের বেশিসংখ্যক জেলে চাল পান না। তালিকার অর্ধেকের চেয়ে কমসংখ্যক জেলেদের জন্য সরকার চাল বরাদ্দ করে। লালমোহন উপজেলায় মোট ২৪ হাজারেরও বেশি জেলে তালিকাভুক্ত থাকলেও চাল বরাদ্দ হয়েছে ১০ হাজার ১০০ জনের জন্য।
উপজেলা মৎস্য অফিসার আলী আহমেদ আখন্দ বরাদ্দ কম হওয়ার ব্যাপারে বলেন, ‘এটি সরকারি সিদ্ধান্ত, তা নিয়ে আমাদের কোনো মন্তব্য নেই। তবে আমরা প্রতিবছরই বরাদ্দ বেশি করার জন্য প্রস্তাব করি।’
এদিকে প্রথম ডিওতে ৮০ কেজি করে চাল বরাদ্দ হয়েছে। এই চাল বিতরণেও বরাবরই অস্বচ্ছতার অভিযোগ থাকে। তবুও ঈদের আগে চাল পাবেন এমনটাই আশা করেছিলেন জেলেরা। কিন্তু মার্চ মাস শেষ হয়ে গেলেও দুই ইউনিয়ন ছাড়া অন্যান্য ইউনিয়নে জেলেদের হাতে এখনো চাল পৌঁছেনি। নির্ধারিত সময়ে চাল না পাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েন জেলেরা। পরিবার-পরিজন নিয়ে জীবিকা নির্বাহে হিমশিম খাচ্ছেন তারা। এতে করে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে তাদের মধ্যে।
উপজেলার মেঘনা পাড়ের জেলে মোবারক, মালেক, মো: মোছলেমসহ কয়েকজন জানান, মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞার কারণে আয়ের প্রধান উৎস বন্ধ থাকে। এই সময় সরকারি সহায়তার চালই একমাত্র ভরসা তাদের। সঠিক সময়ে চাল না পাওয়ার কারণে তাদের ঋণ আরো বাড়ছে এবং অনেক কষ্টের মধ্যে দিন কাটছে। এদিকে এনজিও থেকে নেয়া ঋণের কিস্তির টাকা শোধ করতে হয়।
জানা গেছে, চেয়ারম্যান ও স্থানীয় সরকার দলীয় নেতাদের সমন্বয় এবং তালিকা প্রণয়ন ও যাচাই-বাছাইয়ে সমন্বয়হীনতার কারণে অনেক ইউনিয়নে জেলেরা এখনো সরকারি সহায়তার চাল থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। তবে দুই থেকে একদিনের মধ্যে চাল বিতরণ করা হবে বলে জানান চেয়ারম্যানরা।
বদরপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আসাদুল্লাহ জানান, তালিকা প্রণয়নে দেরি হওয়ায় এতোদিন চাল বিতরণ করা সম্ভব হয়নি, তবে আগামী সপ্তাহের মধ্যেই চাল বিতরণ করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ সিফাত বিন সাদেক বলেন, ‘মৎস্য অফিস থেকে তালিকা সম্পন্ন করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সব ইউনিয়নের চাল বিতরণ সম্পন্ন করার জন্য বলেছি।’



