সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ওসমানীনগরে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিচয় পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে তিনজন একই পরিবারের। এ ঘটনায় আরো তিনজন আহত হয়েছেন।
শনিবার (২২ আগস্ট) বেলা আড়াইটার দিকে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ওসমানীনগর উপজেলার ব্রাহ্মণগ্রাম (কসরতল) এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
সিএনজিচালিত অটোরিকশার সাথে তেলবাহী ট্রাকের এ মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের স্বামী, স্ত্রী ও পাঁচ বছরের মেয়ে রয়েছেন। নিহত অপরজন অটোরিকশার চালক।
নিহতরা হলেন- সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার শ্রীরামশী গ্রামের মৃত গফুর মিয়ার ছেলে নিয়ামত আলী (৩২), তার স্ত্রী উসুফা বেগম (৩০) ও মেয়ে আয়সা আক্তার (৫)। নিহত অপরজন সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক ওসমানীনগর উপজেলার শেরপুর মাঝেরবাড়ী গ্রামের মো: ফরিদ মিয়ার ছেলে লালন মিয়া (২৩)।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সিলেট থেকে ঢাকাগামী একটি তেলবাহী ট্রাক ব্রাহ্মণগ্রাম এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা যাত্রীবাহী সিএনজি অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে অটোরিকশাটি দুমড়েমুচড়ে যায় এবং এর সাত যাত্রী আহত হন।
স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। তাদের মধ্যে দুজনের ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরো দুজনের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনায় জড়িত তেলবাহী ট্রাকটির নম্বর ঢাকা মেট্রো-ঢ ৪৪-০৬৫৪ এবং সিএনজি অটোরিকশাটির নম্বর মৌলভীবাজার-থ ১১-৮৩৫৩।
ওসমানীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোস্তফা ও হাইওয়ে পুলিশের শেরপুর থানার ওসি আনিসুর রহমান জানান, দুর্ঘটনার পর গুরুতর আহত কয়েকজনকে হাসপাতালে পাঠানো হয়। প্রথমে দুজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরো দুজন মারা যান।
উল্লেখ্য, সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের ওসমানীনগর অংশে একের পর এক দুর্ঘটনায় বাড়ছে উদ্বেগ। এর আগে গত ৭ আগস্ট সকালে একই মহাসড়কের ওসমানীনগরে ইউনিক পরিবহন ও বেঙ্গল পরিবহনের দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে নয়জন নিহত হন। ওই ঘটনার মাত্র ১৫ দিনের মাথায় একই মহাসড়কে ফের একসাথে চারজনের প্রাণহানি ঘটল। এরমধ্যে পৃথক দুর্ঘটনায় একাধিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটলেও একসাথে চারজনের মৃত্যু হয়নি। তাই গুরুত্বপূর্ণ এই মহাসড়কের ওসমানীনগর অংশের নিরাপত্তা ও দুর্ঘটনা প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।



