কোরবানি উপলক্ষে মির্জাগঞ্জে ১৩ হাজার পশু প্রস্তুত

উপজেলার সুবিদখালী এলাকার মো: সালাম ফরাজি বলেন, ‘আমার খামারে কোরবানির জন্য ১৫টি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। এসব পশু দেশীয় উপায়ে প্রস্তুত করা হয়েছে।’

মির্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী) সংবাদদাতা

Location :

Mirzaganj
প্রতীকী ছবি

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে কোরবানি জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে ১৩ হাজার ৩৯৩টি পশু। আর এ বছর উপজেলায় কেরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ১১ হাজার ২০০।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় ছোট-বড় প্রায় ৭৮৬ খামারি ও ব্যক্তি মালিকানাসহ মোট ৩৫ হাজার পশু রয়েছে। এর মধ্যে খামারি ও ব্যক্তি পর্যায়ে কোরবানিযোগ্য ষাঁড় আছে চার হাজার ৬৭৫, বলদ এক হাজার ৯৯৪, গাভি চার হাজার ৭২, মহিষ ১১৯, ছাগল দুই হাজার ৫১৫ ও ভেড়া ২৪টিসহ মোট প্রস্তুত রয়েছে ১৩ হাজার ৩৯৯টি পশু।

খামারিরা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়েও বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করতে পারবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। উপজেলার চাহিদা মিটিয়ে পশু উদ্বৃত্ত থাকবে বলে জানিয়েছে প্রাণিসম্পদ বিভাগ।

মির্জাগঞ্জের কালো মানিক নামে খ্যাত ৪৫ মণ ওজনের একটি ষাঁড়ের দাম হাঁকা হয়েছে ২২ লাখ টাকা। সূত্রে জানা যায়, গত বছর বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে উপহার দেয়ার পর ফেরত দেয়া কালো মানিক এবারো মির্জাগঞ্জের কোরবানির বাজারে ওঠানো হচ্ছে।

উপজেলার উত্তর ঝাটিবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা এবং আমড়াগাছিয়া ইউনিয়ন বিএনপির একজন সাধারণ কর্মী সোহাগ মৃধা। তিনি প্রায় সাত বছর আগে স্থানীয় চৈতা বাজার থেকে একটি ফ্রিজিয়ান জাতের গাভি কেনেন। সে গাভির বাচ্চা হিসেবে জন্ম নেয় কালো মানিক। আদর-যত্নে বড় হওয়া এ ষাঁড়ের ওজন এখন প্রায় ৪৫ মণ (প্রায় ১ হাজার ৮০০ কেজি), লম্বায় ১১ ফুট, উচ্চতা ছয় ফুট। তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা কালো রঙের ষাঁড়টিকে লালন-পালন করেছেন।

জানা গেছে, এ উপজেলায় স্থায়ী হাট রয়েছে চারটি। কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে স্থায়ী হাটসহ আরো তিনটি পশুর হাট বসবে। এসব হাটে কোরবানিযোগ্য পশুগুলো বিক্রির জন্য তোলা হবে। ইতোমধ্যেই কিছু কিছু হাটে পশু বিক্রি শুরু হয়েছে।

পশু লালন-পালনে কিছুটা কষ্টসাধ্য হওয়ায় আবার কেউ কেউ খামার থেকেই কিনে নিচ্ছেন। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বাড়তি লাভের আশায় অনেকে দুই থেকে তিন মাস বা ছয় মাস আগে গবাদিপশু লালন-পালন শুরু করেন। ইতোমধ্যেই পর্যায়ক্রমে পশুগুলো বিক্রির জন্য উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে তোলা হচ্ছে। চাহিদা অনুযায়ী দাম মিলে গেলে বিক্রিও করা হচ্ছে। উপজেলার বাইরের ব্যাপারীরাও খামার থেকে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। চাহিদার অতিরিক্ত পশুগুলো রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রির জন্য পাঠানো হবে। সবমিলিয়ে এ উপজেলায় কোরবানির পশুর কোনো সঙ্কট হবে না।

সরেজমিনে উপজেলা সদর সুবিদখালী পশুর হাটে গিয়ে দেখা যায়, ঈদকে সামনে রেখে খামারি ও গৃহস্থ এবং ব্যাপারীরা গরু, মহিষ, ও ছাগল বেচাকেনা করছেন। আবার কেউ দেখেশুনে কোরবানির জন্য পশু কিনবেন।

দেশীয় পশুতেই কোরবানি সম্পন্ন করতে পারবেন উপজেলাবাসী এমনটা প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

এদিকে গবাদিপশু মোটাতাজাকরণে ক্ষতিকর রাসায়নিক দ্রব্যাদি ব্যবহার রোধে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। খামারি ও পশু পালনকারী ব্যক্তিদের মধ্যে পৌঁছে দেয়া হচ্ছে সচেতনতামূলক বার্তা।

উপজেলার সুবিদখালী এলাকার মো: সালাম ফরাজি বলেন, ‘আমার খামারে কোরবানির জন্য ১৫টি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে। এসব পশু দেশীয় উপায়ে প্রস্তুত করা হয়েছে।’

মির্জাগঞ্জ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা: মো: আলাউদ্দিন মাসুদ জানান, উপজেলার খামারগুলোয় কোরবানির ঈদের জন্য পালিত পশুর প্রায় সবই দেশীয় জাতের। চাহিদার চেয়ে বেশি পশু প্রস্তুত রয়েছে। উপজেলার চাহিদার অতিরিক্ত কোরবানিযোগ্য গবাদি পশু অন্যত্র বিক্রি করবে খামারিরা। উপজেলা প্রাণীসম্পদ বিভাগ থেকে খামারি ও ব্যক্তি উদ্যোগে পালিত পশুর প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেয়া হয়।