খানসামায় ভোটের মাঠে শান্তি ও শৃঙ্খলায় তৎপর আনসার ভিডিপি

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী ভোটগ্রহণের আগের দিন থেকে ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন শুরু হবে এবং ভোটপরবর্তী সময় পর্যন্ত সদস্যরা সক্রিয় থাকবেন।

জসিম উদ্দিন, খানসামা (দিনাজপুর)

Location :

Khansama
আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা মোছাম্মৎ খুশি খাতুন
আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা মোছাম্মৎ খুশি খাতুন |নয়া দিগন্ত

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় ভোটকেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী তৎপর হয়ে উঠেছে। উপজেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা মোছাম্মৎ খুশি খাতুনের দক্ষ ও দূরদর্শী নেতৃত্বে বাহিনীর সদস্যরা মাঠপর্যায়ে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন।

নির্বাচনী প্রস্তুতির অংশ হিসেবে উপজেলার বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের দায়িত্ব বণ্টন, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ এবং নিয়মিত ব্রিফিং সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী ভোটগ্রহণের আগের দিন থেকে ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন শুরু হবে এবং ভোটপরবর্তী সময় পর্যন্ত সদস্যরা সক্রিয় থাকবেন।

খানসামা উপজেলায় মোট ৬৭৬ জন আনসার ভিডিপি সদস্য রয়েছেন। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ১৩ জন করে সদস্য মোতায়েন করা হবে। এর মধ্যে থাকবে তিনজন অস্ত্রধারী, ছয়জন পুরুষ এবং চারজন মহিলা। সকল সদস্যকে এভিমিস সফটওয়্যারের মাধ্যমে শতভাগ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত জনসংখ্যা থেকে বাছাই করা হয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এবারের নির্বাচনে কোনো সদস্যের কাছ থেকে কোনো আর্থিক লেনদেনের সুযোগ নেই। এর আগের নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে আনসার সদস্যদের নিয়োগে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ থাকলেও এবার পুরো পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র উপস্থাপন করছে।

উপজেলা আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা মোছাম্মৎ খুশি খাতুন নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলা থেকে পদোন্নতি নিয়ে খানসামায় যোগদান করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা চাই সব ভোটার নিরাপদে এবং নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন। এভিমিস সফটওয়্যারের মাধ্যমে প্রত্যেক সদস্যকে বিস্তারিত প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করার সময় কোনো আর্থিক লেনদেন বা অনৈতিক প্রক্রিয়ার সুযোগ নেই। আমাদের লক্ষ্য শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা।’

সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, আনসার সদস্যরা দায়িত্বে সম্পূর্ণ সতর্ক এবং নিয়মিত টহল ও নজরদারি চালাচ্ছেন। কয়েকজন আনসার ভিডিপি সদস্যের সঙ্গে কথা বললে তারা বলেন, আমরা সকল নির্দেশনা মানছি এবং দায়িত্বে সম্পূর্ণ সতর্ক। ভোটকেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা আমাদের প্রথম দায়িত্ব।

স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া অনুযায়ী, এই স্বচ্ছ ও দক্ষ নেতৃত্ব ভোটারদের আস্থা বৃদ্ধি করেছে। ভোটকেন্দ্রে নিরাপত্তা রক্ষা, শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় নিশ্চিত করতে আনসার বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। সচেতন মহল মনে করছেন, এই উদাহরণ অনুকরণীয় এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও গ্রহণযোগ্য করবে।