সাইফুল আলম খান মিলন এমপি

দলীয়করণ বন্ধ করে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করুন

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকার চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। জনগণের প্রত্যাশা ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে সামনে রেখে সরকারকে রাষ্ট্র পরিচালনার আহ্বান জানান তিনি।

Location :

Savar
সাভারে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ শাইখ আশহাবুল ইয়ামিনের বাবা মো. মহিউদ্দিনের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেয়া হচ্ছে
সাভারে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ শাইখ আশহাবুল ইয়ামিনের বাবা মো. মহিউদ্দিনের হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেয়া হচ্ছে |নয়া দিগন্ত

সাভার (ঢাকা) সংবাদদাতা
দলীয়করণ বন্ধ করে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন এবং সরকারকে সঠিক পথে দেশ পরিচালনার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এমপি।

শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে সাভারে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা জেলার উদ্যোগে জুলাই গণঅভ্যুত্থান-২০২৪-এর শহীদ ও আহতদের সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

সাইফুল আলম খান মিলন বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। যারা নিজেদের জীবন ও নিরাপত্তার কথা চিন্তা না করে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য রাজপথে অবস্থান করেছেন, জাতি তাদের ত্যাগ শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করবে।

তিনি বলেন, শহীদ ও আহতদের সম্মাননা শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি তাদের ত্যাগ, সাহস ও দেশপ্রেমের স্বীকৃতি। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অন্যায়, বৈষম্য ও অবিচারের বিরুদ্ধে ন্যায় ও সত্যের পক্ষে দাঁড়ানোর অনুপ্রেরণা জোগাতে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত, ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা সম্ভব মন্তব্য করে তিনি বলেন, রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিককে অধিকার ও মর্যাদা নিয়ে বসবাসের সুযোগ দিতে হবে। শহীদ ও আহতদের ত্যাগকে ধারণ করে সুন্দর, সমৃদ্ধ ও ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে আত্মনিয়োগ করতে হবে।

দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সব ক্ষেত্রে দলীয়করণের প্রবণতা বন্ধ করতে হবে। প্রশাসনকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রেখে রাষ্ট্র পরিচালনায় নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।

বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে সাইফুল আলম খান মিলন বলেন, বিচার বিভাগের প্রকৃত স্বাধীনতা নিশ্চিত না হলে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা কঠিন। একই সাথে গুমের মতো গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন। নিরাপত্তা বাহিনীর কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তদন্তে স্বার্থের সংঘাত এড়াতে স্বাধীন তদন্তব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন।

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করে তিনি বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকার চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। জনগণের প্রত্যাশা ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে সামনে রেখে সরকারকে রাষ্ট্র পরিচালনার আহ্বান জানান তিনি।

দেশের বিভিন্ন খাতে অনিয়ম ও জনদুর্ভোগের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, চাঁদাবাজি বন্ধ হয়নি। বিদ্যুৎ ও গ্যাস সঙ্কটও রয়েছে। প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে রাজনৈতিক প্রভাবের অভিযোগ রয়েছে। এসব বিষয়ে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

গণভোটের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকার ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের বক্তব্য ও অবস্থানের মধ্যে সামঞ্জস্য থাকা প্রয়োজন। জনগণের কাছে যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, তা বাস্তবায়নে দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে হবে।

জামায়াতে ইসলামীকে হুমকি-ধমকি দিয়ে রাজনৈতিকভাবে দমিয়ে রাখা যাবে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যারা রাজপথে ছিলেন, তাঁদের ত্যাগ ও ভূমিকা কোনোভাবেই অস্বীকার করার সুযোগ নেই। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জেলা সেক্রেটারি মাওলানা মো. আফজাল হোসাইন।

সভাপতির বক্তব্যে ঢাকা জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সব শহীদের শাহাদাতের সর্বোচ্চ মর্যাদা কামনা করেন। একই সাথে আহতদের দ্রুত সুস্থতা এবং দেশ ও জাতির শান্তি, কল্যাণ ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।

অনুষ্ঠানে ঢাকা জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যক্ষ শাহীনুর ইসলাম, সহকারী সেক্রেটারি এবিএম কামাল হোসাইন ও মাওলানা শাহাদাত হোসাইন, রাজনৈতিক সম্পাদক হাসান মাহবুব মাস্টার, আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. শহিদুল ইসলাম, প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক আসাদুজ্জামান জীম, যুব বিভাগের সভাপতি আবদুর রহীম মজুমদার, সাংস্কৃতিক সম্পাদক লুৎফর রহমান মোল্লা, শিক্ষা সম্পাদক অধ্যক্ষ মো. তৌহিদ হোসেন, জেলা কর্মপরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট মীর আতাউর রহমান ও আবদুল কুদ্দুসসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠান শেষে শতাধিক শহীদ ও আহত পরিবারের মধ্যে সম্মাননা স্মারক ও আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করা হয়।