বান্দরবানে ক্ষতিগ্রস্ত বম সম্প্রদায়ের জন্য সেনাবাহিনীর বিশেষ উদ্যোগ

এবার সীমান্তের সুংসং পর্যন্ত যেতে পারবেন পর্যটকরা

এই গ্রামটির ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে সেনাবাহিনীর সহায়তায় তৈরি করে দেয়া হচ্ছে একটি ইকো রিসোর্ট। এটির নাম দেয়া হয়েছে...

মিনারুল হক, বান্দরবান

Location :

Bandarban
ইকো রিসোর্টের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করছেন রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রাকিব ইবনে রেজওয়ান
ইকো রিসোর্টের নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করছেন রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রাকিব ইবনে রেজওয়ান |নয়া দিগন্ত

মিয়ানমার সীমান্ত ঘেঁষা বান্দরবানের রুমা উপজেলার কেওক্রাডং পাহাড়ের পাদদেশের সুন্দর গ্রাম সুংসং পাড়া। গত এক বছর আগে কেএনএফের সাথে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষের সময় বম সম্প্রদায়ের লোকজন আতঙ্কে পার্শ্ববর্তী ভারতের মিজোরামে গিয়ে আশ্রয় নেয়েছিল। পুরো গ্রামটি খালি হয়ে গিয়েছিল। তবে এখন পরিস্থিতি পাল্টেছে। পালিয়ে যাওয়া লোকজন ফিরে আসায় প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে গ্রামটিতে। সবকিছুই এখন আগের মতো।

এই গ্রামটির ক্ষতিগ্রস্ত লোকজনদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে সেনাবাহিনীর সহায়তায় তৈরি করে দেয়া হচ্ছে একটি ইকো রিসোর্ট। এটির নাম দেয়া হয়েছে ‘আলা মি ত্লাং লা’, যার বাংলা অর্থ- দূর পাহাড়ের গান।

অপরদিকে, রিসোর্টটি চালু হলে রুমা থেকে পর্যটকরা বগালেক কেওক্রাডং হয়ে সুংসং পাড়া, ডাবল ফলসসহ বিভিন্ন এলাকায় যেতে পারবেন। দেশের সর্বোচ্চ সড়ক এখন এটি।

শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) সকালে সেনাবাহিনীর বান্দরবান রিজিয়নের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এস এম রাকিব ইবনে রেজওয়ান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে রিসোর্টটির নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন।

এ সময় তার সাথে ছিলেন সেনাবাহিনীর ১৬ বেঙ্গলের অধিনায়ক লে. কর্নেল আতিকুল করিম, রুমা জোনের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো: মেহেদী হাসান সরকার, জেলা পরিষদের সদস্য ও বম সোশ্যাল কাউন্সিলের সভাপতি লালজার লম বমসহ সেনাবাহিনী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বম সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ।

সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ২১০০ ফুট উচ্চতায় ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে সেনাবাহিনীর ১৬ বেঙ্গল এই রিসোর্টটি নির্মাণ করে দিচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, কুকি চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) সাথে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষের সময় বান্দরবানের রুমা, রোয়াংছড়ি ও থানচির বিভিন্ন জায়গা থেকে দুই সহস্রাধিক বম সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষ পার্শ্ববর্তী ভারতের মিজোরামে গিয়ে আশ্রয় নেয়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসায় ২০২ পরিবারের ৫০৩ জন আবারো তাদের নিজ গ্রামে ফিরে এসেছে। কর্মসংস্থান না থাকায় এসব লোকজন এখন নানামুখী সংকটে পড়েছে।

স্থানীয়দের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সেনাবাহিনী ক্ষতিগ্রস্ত বন সম্প্রদায়ের জন্য ইকো রিসোর্ট নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। এতে করে পর্যটন শিল্পের উন্নয়নের পাশাপাশি স্থানীয় বম সম্প্রদায়ের অর্থনৈতিক অবস্থার পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রিসোর্টটির উদ্বোধন শেষে রিজিয়ন কমান্ডার সাংবাদিকদের বলেন, ‘শুধু রিসোর্ট নয় এলাকার লোকজনদের শিক্ষা স্বাস্থ্য ও খাবার পানির সমস্যা সমাধানে সেনাবাহিনী কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতে যাতে কোনো সন্ত্রাসী গ্রুপ এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করতে না পারে সে লক্ষ্যে সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সন্ত্রাসীদের কোনোভাবে ছাড় দেয়া হবে না।’