নতুন জেলা প্রশাসকের উদ্যোগ, বদলে যাচ্ছে চট্টগ্রামের ডিসি হিল

ইংরেজ শাসনামলের গোড়ার দিকে এখানে চাকমা রাজার বাড়ি ছিল। পরবর্তীতে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসকের (ডিসি) বাসভবন স্থাপিত হওয়ায় কালক্রমে এ পাহাড় ‘ডিসি হিল’ নামে পরিচিতি লাভ করে।

নূরুল মোস্তফা কাজী, চট্টগ্রাম ব্যুরো

Location :

Chattogram
ডিসি হিল
ডিসি হিল |নয়া দিগন্ত

ডিসি হিল চট্টগ্রাম শহরের কেন্দ্রবিন্দু। এ পাহাড়কে ঘিরে শহরবাসীর অনেক স্বপ্ন ও ভালোবাসা। আনন্দ নিয়ে বেঁচে থাকার একটি বড় জায়গা হলো এ ডিসি হিল। এটি এমন একটি স্থান, যেখানে হাঁটাহাঁটি করে মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে। এটি নগরবাসীর খুব প্রিয় জায়গা। সারাদিনের ক্লান্তির পর এখানে গেলেই মন ভালো হয়ে যায়।

ইতিহাস বলে, ইংরেজ শাসনামলের গোড়ার দিকে এখানে চাকমা রাজার বাড়ি ছিল। পরবর্তীতে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসকের (ডিসি) বাসভবন স্থাপিত হওয়ায় কালক্রমে এ পাহাড় ‘ডিসি হিল’ নামে পরিচিতি লাভ করে। চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনারের সরকারি বাসভবনও রয়েছে এ পাহাড় চূড়ায়।

চট্টগ্রাম শহরের নন্দনকানন বৌদ্ধ মন্দির সড়কে অবস্থিত ডিসি হিলে সকাল, বিকেল এমনকি সন্ধ্যায়ও এ পাহাড়ের পাদদেশে অনেক মানুষ শ্বাস নিতে আসেন। কিন্তু দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে ডিসি হিলের নান্দনিক পরিবেশ নষ্ট হয়ে গিয়েছিল বলে জানিয়েছেন নিয়মিত প্রাতভ্রমণে আসা নাগরিকরা।

চট্টগ্রামের নবাগত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞার সরকারি বাসভবনে আসা যাওয়ার পথে ডিসি হিলের নাজুক অবস্থার বিষয়টি তার চোখেও ধরা পড়ে। দ্রুত তিনি প্রাথমিক সংস্কারের সিদ্ধান্ত নেন। ডিসি হিলের নান্দনিক পরিবেশ আরো দৃষ্টিনন্দন করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনাও নেয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে জেলা প্রশাসন সূত্রে।

প্রাথমিক সংস্কারের অংশ হিসেবে বিভিন্ন অবকাঠামোতে নতুন করে সাদা ও লাল রঙের কাজ করা হয় জেলার অভিভাবকের নির্দেশে। পাশাপাশি জরুরি ভিত্তিতে কিছু ল্যাম্পপোস্টও স্থাপন করা হয়।

অবহেলিত ডিসি হিলের এ সামান্য উন্নয়ন কাজেও ভীষণ খুশি প্রাতভ্রমণে আসা বিভিন্ন প্রাতভিত্তিক সামাজিক সংগঠনের সদস্যরা। তারা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞাকে তার এ ছোট উদ্যোগের জন্য ধন্যবাদ জানান।

৪২ বছরে পা রাখা শতায়ু অঙ্গনের সদস্যদের পক্ষ থেকে একটি ব্যানার টাঙানো হয়। সেখানে লেখা ছিল- ডিসি হিলকে নতুন রূপে প্রাণবন্ত করে তোলার মহৎ উদ্যোগ গ্রহণ করায় জেলা প্রশাসককে আন্তরিক অভিনন্দন।

ডিসি হিলে প্রতিদিন যাতায়াতকারী একাধিক ব্যক্তি জানান, এখন লাইটিং করায় জায়গাটা অনেক সুন্দর লাগছে। আগে নিয়মিত ঝাড়ু দেয়া হতো না। ২০ থেকে ২৫ দিন পরপর একবার ঝাড়ু দেয়া হতো। কুকুর পায়খানা করত, পাগলেরা ময়লা-আবর্জনা ফেলে রাখত। ডিসি সাহেব লাইটিং করে আমাদের মনকেও আলোকিত করেছেন। এখন অনেক মানুষ ডিসি হিলে যেতে উৎসাহিত হচ্ছেন। ব্যায়াম ও হাঁটাহাঁটি করা মানুষের সংখ্যাও বেড়েছে।

সারাদেশের সবচেয়ে প্রাচীন প্রাতভিত্তিক সংগঠন শতায়ু অঙ্গনের সভাপতি রুস্তম আলী আক্ষেপের সুরে বলেন, ‘আগেও অনেক ডিসি ছিলেন, কিন্তু কেউ করেননি। এই ডিসি করেছেন।’