সীতাকুণ্ডে ২ হত্যা মামলার আসামি গণপিটুনিতে নিহত

ইরানের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় মাদকের সিন্ডিকেট ও ‘ইরান বাহিনী’ গড়ে তোলার অভিযোগ রয়েছে। তার এই বাহিনীর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও ত্রাস সৃষ্টির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছিল।

নজরুল ইসলাম, সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম)

Location :

Sitakunda
মৃত কিশোর শামীম
মৃত কিশোর শামীম |নয়া দিগন্ত

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে শামীম নামের এক কিশোরের মৃত্যুর প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ জনতার গণপিটুনিতে মাদককারবারি ও দুই হত্যা মামলার আসামি মো: নুরুল ইসলাম ইরান (৪৪) নিহত হয়েছেন।

শনিবার (২৫ জুলাই) রাতে উপজেলার মুরাদপুর ইউনিয়নের ভাটেরখীল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইরানের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এলাকায় মাদকের সিন্ডিকেট ও ‘ইরান বাহিনী’ গড়ে তোলার অভিযোগ রয়েছে। তার এই বাহিনীর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও ত্রাস সৃষ্টির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছিল। ইতোপূর্বে শামীম নামের এক কিশোরকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় হওয়া মামলায় তিনি প্রধান আসামি ছিলেন।

জানা যায়, গত ২০ জুলাই রাতে স্থানীয় একটি দোকানে ইরান বাহিনীর এক সদস্যের একটি ইয়াবার পুটলি হারিয়ে যায়। সেটি কিশোর নাইম পেয়েছে এমন সন্দেহে তুলে নিয়ে সারা রাতভর নির্যাতন চালায় ইরান বাহিনী। পরে নাইমের পরিবার খবর পেলে তাকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের নেয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে তার মৃত্যু হয়।

শনিবার নাইমের জানাজা শেষ হওয়ার পরপরই বিক্ষুব্ধ জনতা ইরান ও তার সহযোগীদের ওপর চড়াও হয়। প্রথমে ইরানকে না পেয়ে তার এক সহযোগীকে গণপিটুনি দেয়া হয়। পরে আত্মগোপনে থাকা ইরানকে সহস্রাধিক মানুষ ঘিরে ফেলে। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে পিটিয়ে হত্যা করে এবং তার বসতবাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়।

সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহিনুল ইসলাম এ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নিহত ইরান এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে মাদককারবার পরিচালনা করে আসছিলেন এবং তিনি দু’টি হত্যা মামলারও আসামি ছিলেন। ইতোপূর্বে তাকে গ্রেফতারে অভিযান চালানো হলেও আটক করা সম্ভব হয়নি। শনিবার গণপিটুনিতে তার মৃত্যুর পর পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে।

ওসি আরো জানান, এ ঘটনায় আহত অবস্থায় ইরানের এক সহযোগীকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।