জ্বালানির পর ভোজ্য তেলের সঙ্কট পটুয়াখালীতে, বাড়ছে দাম

জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতার রেশ কাটতে না কাটতেই পটুয়াখালীর সর্বত্র এবার ভোজ্য তেলের সঙ্কট দেখা দিয়েছে। জেলার বিভিন্ন বাজারে বোতলজাত তেল প্রায় অপ্রতুল হয়ে পড়েছে, আর খোলা তেলও চাহিদার তুলনায় কম পাওয়া যাচ্ছে। এতে করে ভোক্তাদের মধ্যে উদ্বেগ ও অসন্তোষ বাড়ছে।

মিজানুর রহমান, কুয়াকাটা (পটুয়াখালী)

Location :

Patuakhali
জ্বালানির পর ভোজ্য তেলের সঙ্কট পটুয়াখালীতে, বাড়ছে দাম
জ্বালানির পর ভোজ্য তেলের সঙ্কট পটুয়াখালীতে, বাড়ছে দাম |নয়া দিগন্ত

জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতার রেশ কাটতে না কাটতেই পটুয়াখালীর সর্বত্র এবার ভোজ্য তেলের সঙ্কট দেখা দিয়েছে। জেলার বিভিন্ন বাজারে বোতলজাত তেল প্রায় অপ্রতুল হয়ে পড়েছে, আর খোলা তেলও চাহিদার তুলনায় কম পাওয়া যাচ্ছে। এতে করে ভোক্তাদের মধ্যে উদ্বেগ ও অসন্তোষ বাড়ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে লিটারপ্রতি ভোজ্য তেলের দাম ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে জেলার বাজারগুলোতে খোলা সয়াবিন তেল লিটারপ্রতি প্রায় ২১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া সিটি ব্র্যান্ডের তেল বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকায় এবং পাম্প তেলের দাম ১৯০ টাকার কাছাকাছি।

ভোক্তাদের অভিযোগ, সরকারি পর্যায়ে ভোজ্য তেলের দাম বাড়ানোর কোনো ঘোষণা না থাকলেও এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বেশি দামে তেল বিক্রি করছেন। এতে করে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। দ্রুত বাজার নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন তারা।

অন্যদিকে খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, পাইকারি বাজারেই বেশি দামে তেল কিনতে হচ্ছে। ফলে বাধ্য হয়ে কিছুটা বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক না থাকাকেই বর্তমান সঙ্কটের প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তারা।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বাজার সরবরাহ পরিস্থিতি মনিটরিং জোরদার, মজুতদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিয়মিত বাজার তদারকি বাড়ানো হলে পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। একই সাথে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের অভিযান জোরদারেরও প্রয়োজন রয়েছে।

এ বিষয়ে পটুয়াখালী জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অফিসের ০১৩১৮৩৯৬৯৭৭ নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি।

তবে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং কৃত্রিম সঙ্কট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এদিকে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ না নিলে নিত্যপ্রয়োজনীয় এ পণ্যের বাজার আরও অস্থির হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।