রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) সংবাদদাতা
ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল সীমান্তে ঘাস কাটতে গিয়ে ভারতীয় সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনীর (বিএসএফ) হাতে আটক হওয়ার প্রায় ১১ মাস পর লাশ হয়ে দেশে ফিরলেন দিনমজুর আজিজুর রহমান (৪৬)। পরিবারের অভিযোগ, বিএসএফের নির্যাতনে গুরুতর অসুস্থ হয়ে ভারতের হাসপাতাল ও কারাগারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বিকেলে পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা সীমান্ত দিয়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও বিএসএফের উপস্থিতিতে ভারতীয় পুলিশ আজিজুর রহমানের লাশ তেঁতুলিয়া মডেল থানা ও বাংলাবান্ধা ইমিগ্রেশন পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। পরে তেঁতুলিয়া মডেল থানার পুলিশ তার জামাতা দুলাল হোসেন ও ভাতিজা সোহেল রানার কাছে লাশ হস্তান্তর করে।
এ সময় তেঁতুলিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশেদুল ইসলাম, বিজিবির বাংলাবান্ধা বিওপির কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার ইউনুস, ভারতের কলকাতায় নিযুক্ত বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের কর্মকর্তাসহ স্বজনরা উপস্থিত ছিলেন।
নিহত আজিজুর রহমান ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার ধর্মগড় ইউনিয়নের শাহানাবাদ গ্রামের মরতুস আলীর ছেলে।
পারিবারিক ও বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১৩ মে রাণীশংকৈল উপজেলার শাহানাবাদ সীমান্তের ৩৭৩/১-এস পিলারের কাছে ঘাস কাটতে গেলে ভারতের ১৮৪ আমবাড়ী ক্যাম্পের বিএসএফ সদস্যরা তাকে ধরে নিয়ে যায়।
আজিজুরের স্ত্রী তাছকারা বেগম অভিযোগ করেন, তার স্বামী কোনো অপরাধ করেননি। জিরো পয়েন্ট এলাকায় ঘাস কাটার সময় বাংলাদেশ সীমান্ত থেকেই তাকে ধরে নিয়ে যায় বিএসএফ। আটক করার পর বেধড়ক মারধরে তার স্বামীর পা ভেঙে দেওয়া হয় এবং গুরুতর আহত করা হয়।
তিনি আরো জানান, পরে তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা দিয়ে শিলিগুড়ি জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। চলতি বছরের ২২ মার্চ আজিজুর গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে শিলিগুড়ি সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেদিন বিকেল পাঁচটার দিকে তিনি মারা যান। এ ঘটনাকে হত্যাকাণ্ড হিসেবে দাবি করে বিচার দাবি করেন তিনি।
মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর আজিজুরের লাশ দেশে ফিরিয়ে আনতে দুই দেশের মধ্যে প্রশাসনিক ও কূটনৈতিক যোগাযোগ শুরু হয়। আনুষ্ঠানিকতা শেষে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
লাশ বুঝে পাওয়ার পর স্বজনরা অ্যাম্বুলেন্সে করে বাড়িতে নিয়ে যান। পরে ওইদিন সন্ধ্যায় শাহানাবাদ কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হওয়ার কথা জানিয়েছেন ভাতিজা সোহেল রানা।
রাণীশংকৈল উপজেলার ধর্মগড় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আবুল কাশেম বলেন, আজিজুরের পরিবার অত্যন্ত দরিদ্র। বসতভিটা ছাড়া তাদের তেমন কোনো সহায়-সম্বল নেই। আটকের সময় ধস্তাধস্তির ঘটনায় বিএসএফ তাকে নির্যাতন করে বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে। পরে হাসপাতালে চিকিৎসা দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানো হয় এবং গুরুতর অসুস্থ হলে হাসপাতালে নেয়ার পর তিনি মারা যান।
ঠাকুরগাঁও ৫০ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তানজির আহমেদ বলেন, ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশ হাইকমিশনের কর্মকর্তা, বিএসএফ ও ভারতীয় পুলিশ শুক্রবার বিকেলে আজিজুর রহমানের লাশ হস্তান্তর করেছে। লাশ বুঝে পাওয়ার পর তার স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।



