বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের চতুর্থ সংঘরাজ অগ্রমহাপন্ডিত উপাধিপ্রাপ্ত, বাঘাইছড়ি কাচালং শিশু সদনের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ এবং সর্বজন শ্রদ্ধেয় বৌদ্ধ ধর্মগুরু ভদন্ত তিলোকানন্দ মহাথেরোর দাহক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। হাজারো পূণ্যার্থীর অশ্রুসিক্ত নয়ন, বৌদ্ধ ভিক্ষুসংঘের প্রার্থনা ও ‘সাধু সাধু’ ধ্বনির মধ্য দিয়ে তার চিরবিদায় অনুষ্ঠিত হয়।
শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) রাঙ্গামাটির মগবান শাক্যমুনি বৌদ্ধ বিহার সংলগ্ন রূপকারী মাঠ প্রাঙ্গনে দ্বিতীয় দিনের দিনব্যাপী ধর্মীয় কর্মসূচি শেষে বিকাল ৪টার দিকে ধর্মীয় রীতি ও প্রথা অনুযায়ী দাহক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।
দাহক্রিয়া শুরুর আগে বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে মরদেহ শ্মশানস্থলে নেয়া হয়। এ সময় হাজার হাজার নারী-পুরুষ পূণ্যার্থী শোকমিছিলের মাধ্যমে শেষ শ্রদ্ধা জানান। দাহক্রিয়া অনুষ্ঠানের সূচনা পর্ব ছিল অত্যন্ত আবেগঘন। ভিক্ষুসংঘ ও পূণ্যার্থীদের চোখে অশ্রু আর কণ্ঠে প্রার্থনার ধ্বনিতে শ্মশান প্রাঙ্গণ ভারী হয়ে ওঠে।
দাহক্রিয়া ও ধর্মসভা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া উদযাপন পরিষদ সভাপতি ভদন্ত শ্রদ্ধালংকার মহাথের।আশীর্বাদক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য ভিক্ষু সংঘের উপসংঘরাজ,ভদন্ত প্রজ্ঞানন্দ মহাথের।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজল তালুকদার, খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি শাখা) রুমানা আক্তার, বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা মারজান, বাঘাইছড়ি সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহমদুল হাসানসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিরা।
এর আগে সকাল ৬টার দিকে ভিক্ষুসংঘের প্রাতঃরাশের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। সকাল সাড়ে ৭টায় কাতলা নৃত্য পরিবেশন, সকাল সাড়ে ৮টায় অতিথিদের আসন গ্রহণ ও শ্রদ্ধা নিবেদন অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে উদ্বোধনী সংগীত ও উদযাপন পরিষদের স্বাগত বক্তব্যের পর ভদন্ত তিলোকানন্দ মহাথেরের কর্মজীবনের ওপর আলোচনা এবং প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
পরে পঞ্চশীল গ্রহণ ও দানোৎসর্গ শেষে বেলা ১১টায় ভিক্ষুসংঘের পিন্ডদান গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। বেলা সাড়ে ১২টায় সভাপতির বক্তব্যের পর দুপুর ১টায় অতিথি আপ্যায়ন ও পূণ্যার্থীদের ভোজন পরিবেশন করা হয়। দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে পুনরায় কাতলা নৃত্য পরিবেশন এবং দুপুর ২টায় হাজার হাজার পূণ্যার্থীর অংশগ্রহণে গাড়ি টানা অনুষ্ঠিত হয়। দাহক্রিয়া শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় প্রদীপ প্রজ্জ্বলন ও সকল প্রাণীর মঙ্গল কামনায় প্রার্থনা করা হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ধর্মীয় কীর্তনের মধ্য দিয়ে দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটে।
উল্লেখ্য, শনিবার (২০ ডিসেম্বর) ভদন্ত কল্যামিত্র মহাথেরের সভাপতিত্বে সকাল ৭টায় শবদেহের অস্থি (হার) সংগ্রহ করা হবে। সকাল ৯টায় ভিক্ষুসংঘের আসন গ্রহণ,পঞ্চশীল গ্রহণ ও দানোৎসর্গ এবং সকাল সাড়ে ৯টায় পূণ্যার্থীদের নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ১১টায় ভিক্ষু পিন্ডদান গ্রহণের মধ্য দিয়ে তিন দিনের সকল আনুষ্ঠানিকতা শেষ হবে।



