দ্বীনি শিক্ষায় অনন্য দৃষ্টান্ত

রমজানে করিম-বানু ফাউন্ডেশনের ব্যতিক্রমী আয়োজন

রমজানের বরকতময় পরিবেশে উপজেলার পাঁচটি কেন্দ্রে অভিজ্ঞ ক্বারী ও দ্বীনি শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে এ কার্যক্রম।

Location :

Mymensingh
সহীহ্ কোরআন ও নামাজ শিক্ষা কোর্স
সহীহ্ কোরআন ও নামাজ শিক্ষা কোর্স |নয়া দিগন্ত

ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা
ময়মনসিংহের ত্রিশালে পবিত্র মাহে রমজানকে কেন্দ্র করে আধ্যাত্মিক ও নৈতিক জাগরণের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে করিম-বানু ফাউন্ডেশন। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় একযোগে শুরু হয়েছে সহীহ্ কোরআন ও নামাজ শিক্ষা কোর্স। ইতোমধ্যে ব্যতিক্রমধর্মী এই উদ্যোগ স্থানীয়ভাবে ব্যাপক প্রশংসা ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

রমজানের বরকতময় পরিবেশে উপজেলার পাঁচটি কেন্দ্রে অভিজ্ঞ ক্বারী ও দ্বীনি শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে এ কার্যক্রম। শিক্ষার্থীদের সহীহ্ তাজবিদে কোরআন তিলাওয়াত, নামাজের ফরজ-ওয়াজিব, সুন্নাত, প্রয়োজনীয় মাসআলা-মাসায়েল এবং দৈনন্দিন ইবাদতের শুদ্ধ পদ্ধতি হাতে-কলমে শেখানো হচ্ছে।

শিশু থেকে প্রবীণ সবাই শিক্ষার্থী
সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এ কোর্সে অংশগ্রহণ করছে শিশু, কিশোর-কিশোরী, তরুণ-তরুণী ও প্রবীণ নারী-পুরুষ। বিশেষভাবে লক্ষণীয়, বয়স্ক অংশগ্রহণকারীদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি। জীবনের শেষ প্রান্তে শুদ্ধভাবে কোরআন পড়া ও নামাজ আদায় শেখার সুযোগ পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ছেন অনেকেই।

পাঁচটি কেন্দ্রের মধ্যে দু’টি কেন্দ্রে বয়স্কা মহিলা ও স্কুল-কলেজ পড়ুয়া তরুণীরা অংশ নিচ্ছেন। অপর তিনটি কেন্দ্রে অংশ নিচ্ছেন বয়স্ক পুরুষ, স্কুল-কলেজের তরুণ শিক্ষার্থীরা। কেন্দ্রগুলো হলো— বীররামপুর ভাটিপাড়া কর্তাখালীর পাড় জামে মসজিদ, পৌর শহরের দরিরামপুরে মার্কাজুত তাহফিজ মাদরাসা, কানিহারী ইউনিয়নের জামতলা জামে মসজিদ, এলংজানি দারুল উলূম মাদরাসা ও কাকচর জামে মসজিদ।

শিক্ষার্থীদের অনুভূতি
কিশোর শিক্ষার্থী রাকিবুল হাসান বলেন, ‘রমজান মাসে কোরআন শিখতে পারা অনেক বড় সৌভাগ্যের বিষয়। আমরা নিয়মিত ক্লাস করছি এবং প্রতিদিন নতুন কিছু শিখছি।’

প্রবীণ শিক্ষার্থী নূরজাহান বলেন, ‘ছোটবেলায় মক্তবে কায়দা পড়েছি, তবে ভালোভাবে শেখার সুযোগ পাইনি। এখন বিনামূল্যে এমন সুন্দর ব্যবস্থাপনায় সহীহ্ করে কোরআন শিখতে পারছি এটা আল্লাহর বিশেষ রহমত।’

বৃদ্ধ শিক্ষার্থী আব্দুল জলিল জানান, শুধু তিলাওয়াত নয়, নামাজের ভুলগুলোও সংশোধন করা হচ্ছে। এতে আত্মবিশ্বাস বেড়েছে।

রামপুর ইউনিয়নের সমাজসেবক ফয়সাল আহমেদ মনে করেন, এ ধরনের উদ্যোগ সমাজে নৈতিকতা, শুদ্ধতা ও ধর্মীয় সচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তার ভাষায়, ‘তরুণ প্রজন্মকে ধর্মীয় শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করতে এমন সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় উদ্যোগ আরো প্রয়োজন।’

স্মরণে দুই মানবহিতৈষী
ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মরহুম আব্দুল করিমের (অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তা) আত্মার মাগফিরাত ও হাছনা বানুর দীর্ঘ নেক হায়াত এবং সুস্বাস্থ্য কামনায় এই মানবকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। শিক্ষার্থীরাও তাদের জন্য দোয়া করেন।

প্রতিষ্ঠাতার বক্তব্য
করিম-বানু ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান মো: ইউছুফ হোসাইন বলেন, ‘রমজান আত্মশুদ্ধি ও কোরআন নাযিলের মাস। আমরা চাই সমাজের প্রতিটি মানুষ সহীহ্ তিলাওয়াত শিখুক এবং শুদ্ধভাবে নামাজ আদায় করুক। এটি শুধু একটি কোর্স নয় এটি নৈতিক ও আত্মিক জাগরণের একটি প্রয়াস। আল্লাহর সন্তুষ্টিই আমাদের একমাত্র লক্ষ্য। ভবিষ্যতেও আমরা এ ধরনের উদ্যোগ আরো বিস্তৃত পরিসরে চালিয়ে যাবো, ইনশাআল্লাহ।’

মাস শেষে পুরস্কার ও সনদ
মাসব্যাপী এ কোর্স শেষে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ, অগ্রগতি ও নিয়মিত উপস্থিতির ভিত্তিতে বিশেষ পুরস্কার ও সনদ প্রদান করা হবে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের আগ্রহ ও উৎসাহ আরো বৃদ্ধি পাবে।

আলোচনায় মানবিক ও ধর্মীয় জাগরণ
ত্রিশালজুড়ে এ উদ্যোগ এখন প্রশংসিত। ধর্মীয় চেতনা জাগরণ, নতুন প্রজন্মকে শুদ্ধ দ্বীনি শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ করা এবং সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার প্রত্যয়ে করিম-বানু ফাউন্ডেশনের এ আয়োজন ইতোমধ্যে এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।