সাতকানিয়া (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা
চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় মাদক কারবার ও এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষ কিশোর গ্যাং সদস্যের ছুরিকাঘাতে তাহমিদুল হাসাম হামীম (১৯) নামে এক কিশোর নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের সহায়তায় অভিযুক্ত কিশোর গ্যাং সদস্য মো: রোহান উদ্দিনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার কেরানীহাট সিটি সেন্টার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত হামীম উপজেলার ছদাহা ইউনিয়নের হাসমত আলী সিকদার দোকান এলাকার আলী হাদি বাড়ির মরহুম ফরিদুল আলমের ছেলে।
এলাকাবাসী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে প্রতিপক্ষ কিশোর গ্যাং সদস্য রোহান আমিরাবাদ এলাকা যাচ্ছিলেন। ওই সময় তার প্রতিবেশী শাহানুরসহ আরও কয়েকজন তার সঙ্গে একটি গাড়িতে উঠেন। পথিমধ্যে ইয়াবা ব্যবসা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে নিহত হামীমের সঙ্গে শাহানুর ও অন্যান্যদের মারামারি হয়। সেখানে হামীম মারধরের শিকার হন। ওই সময় রোহান মধ্যস্থতাকারী হিসাবে ভূমিকা রাখেন। কিন্তু এতে হামীমের ধারণা, রোহানের ইন্দনে তাকে মারধর করা হয়েছে। তাই তাকে পরবর্তীতে দেখে নেওয়ার হুমকি দেয় হামীম।
পরে, হামীমের নেতৃত্বে ১০-১৫ জনের একটি গ্রুপ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হাসমত আলীর দোকান এলাকায় মহড়া দেয় এবং পরে তারা গ্রেফতার রোহানের এলাকা, কাজিরখীলে গিয়েও শক্তির মহড়া প্রদর্শন করেন। পরে উভয় পক্ষ বিষয়টি মীমাংসার জন্য মঙ্গলবার রাতে কেরানীহাট সিটি সেন্টার এলাকায় জড়ো হয়। সেখানে তাদের মধ্যে তর্কবিতর্ক ও হাতাহাতি হয়। এসময় হামীম লোহার রড় দিয়ে রোহানের হাতে আঘাত করলে এতে রোহান তার সাথে থাকা ধারালো ছুরি দিয়ে হামীমের পেটে উপর্যুপুরি ছুরিকাঘাত করলে হামিমের পেটের নাড়িভুঁড়ি বের হয়ে যায়।
এ সময় তার সহযোগীরা তাকে উদ্ধার করে কেরানীহাটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করে। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
নিহত হামীমের মামা মো: মহিউদ্দিন জানান, হামীম ও তার বন্ধুদের মধ্যে একটা বিরোধ হয়েছিল। আমার ভাগিনা বিরোধটি মীমাংসার জন্য কেরানীহাট সিটি সেন্টারে গিয়েছিল। সেখানেই মারামারির ঘটনা ঘটেছে।
তিনি বলেন, হামিম গত বছর এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেনি। সেই সুযোগে সে এলাকার খারাপ ছেলেদের সাথে মিশতে থাকে। তাকে অসৎ সঙ্গ থেকে বাঁচাতে প্রবাসে পাঠানোর জন্য পাসপোর্টও তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সে দুনিয়া থেকে চলে গেলো। তার বিবাহিত দুই বোন রয়েছে। আমরা এ ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।
সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী জানান, প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি পূর্ব বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে। তবে, কী বিষয় নিয়ে বিরোধ ছিল, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তিনি জানান, এ ঘটনায় আরো কেউ জড়িত আছে কিনা এবং অন্য কারো ইন্ধন ছিল কি না, সেই বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় জড়িত গ্রেফতার রোহানকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার মূল কারণ ও বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা চলছে।



