স্বজনদের আহাজারি আজও থামেনি!

নাছরিন-১ ট্র্যাজেডির ২৩ বছর : লালমোহনে স্বজনদের পক্ষ থেকে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল

বুধবার (৮ জুলাই) ছিল এমভি নাছরিন-১ ট্র্যাজেডির ২৩ বছর। এ উপলক্ষে নিহতদের স্বজনদের পক্ষ থেকে স্থানীয় বিভিন্ন মসজিদে দোয়া-মুনাজাত ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

লালমোহন (ভোলা) সংবাদদাতা

Location :

Lalmohan
চাঁদপুরের মেঘনার ডাকাতিয়ায় ডুবে যাওয়া এমভি নাছরিন-১ লঞ্চ। (ফাইল ফটো)
চাঁদপুরের মেঘনার ডাকাতিয়ায় ডুবে যাওয়া এমভি নাছরিন-১ লঞ্চ। (ফাইল ফটো) |নয়া দিগন্ত

বুধবার (৮ জুলাই) ছিল এমভি নাছরিন-১ ট্র্যাজেডির ২৩ বছর। এ উপলক্ষে নিহতদের স্বজনদের পক্ষ থেকে স্থানীয় বিভিন্ন মসজিদে দোয়া-মুনাজাত ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

লালমোহন উপজেলার পূর্ব চরউমেদ গ্রামের হাফিজউদ্দীন বাজার এলাকার বিএনপির ইউনিয়ন সাধারণ সম্পাদক মো: কাঞ্চন মিয়ার ভাই নিহত মো: জাহাঙ্গীর আলমের স্বজনরা তার রুহের মাগফিরাত কামনা করে স্থানীয় হাফিজউদ্দীন বাজার জামে মসজিদ, নুরু পণ্ডিত বাড়ির জামে মসজিদ ও নুরু মাস্টার বাড়ির জামে মসজিদসহ কয়েকটি জামে মসজিদে সকল নিহতদের রুহের মাগফিরাতের জন্য দোয়া ও মুনাজাত করেন।

উল্লেখ্য, ২০০৩ সালের এই দিনে ঢাকা সদরঘাট থেকে ছেড়ে আসা ভোলার লালমোহনগামী এমভি নাছরিন-১ লঞ্চ চাঁদপুরের ডাকাতিয়া নদীতে ডুবে ৪০২ জনের সলিলসমাধি হয়। দেশের নৌ-দুর্ঘটনার ইতিহাসে এটাই সবচেয়ে বড় দুর্ঘটনা। নাছরিন লঞ্চডুবির ২৩ বছর হলেও নিহতদের স্বজনদের পরিবারে কান্না আজও থামেনি।

এক পরিবারের ২৬ জন নিয়ে বরযাত্রী হয়ে লঞ্চে উঠে ২৪ জনকেই হারায় লালমোহন ফরাজগঞ্জ ইউনিয়নের মহেষখালী গ্রামের রিনা বেগম। রিনার সঙ্গে বেঁচে ফেরে তার ফুফাতো ভাই সোহেল। চিরদিনের মতো হারিয়ে যায় রিনার সাত বছরের মেয়ে হাফসা, বোন স্বপ্না, রুমা, তাদের স্বামী-সন্তান, মামা আ: কাদের, মামি সুফিয়া, খালা রাহিমা, খালাতো ভাই মিলন, মিজানসহ পুরো পরিবারের স্বজন। সেদিন রিনা ঢাকা থেকে ভাগ্নে কলেজ শিক্ষক মতিনের বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য লালমোহনের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন। পরিবারের কোনো সদস্যেরই লাশ খুঁজে পাওয়া যায়নি।

নাছরিন লঞ্চে সেদিন এশার নামাজের ইমামতি করেছিলেন লালমোহন চরভূতা ইউনিয়নের মাদরাসা সুপার মাওলানা মাকসুদুর রহমান। নিজে বেঁচে আসতে পারলেও সঙ্গে থাকা ভাগ্নে নোমানকে আর খুঁজে পাননি। নিজের স্বামীকে হারানোর কথা তুলে ধরেন শামসুননাহার। স্ত্রী ও মেয়েকে হারিয়ে বেঁচে ফিরে আসার কথা জানান লালমোহনের ব্যবসায়ী মো. শাহজাহান।

রমাগঞ্জের পূর্ব চরউমেদ গ্রামের আজাহার উদ্দিন রোডের পূর্ব মাথায় এলাকার আনিছুল হক, তার স্ত্রী আমেনা বেগম, নাতনি জেসমিন আক্তার (কমেলা) ঐ লঞ্চে উঠে আর বাড়িতে ফিরে আসেননি। তাদের সন্তান প্রতিবন্ধী সিরাজ ও ভুট্টা জানান, তারা তাদের মা-বাবা ও ভাগনিকে অনেক খোঁজ করেছেন, কিন্তু তাদের লাশগুলো কোথাও পাননি। প্রতিবছর এ দিনে তারা তাদের মা-বাবার জন্য মসজিদে দোয়া ও মিলাদের আয়োজন করেন।

স্বজনহারাদের দায়ের করা মামলায় উচ্চ আদালত ১৭ কোটি ১১ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের রায় দিলেও তা আজও বাস্তবায়ন হয়নি। এই রায় দ্রুত কার্যকর দেখতে চান নিহত ও নিখোঁজ পরিবারের স্বজনরা। বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) ২০০৪ সালে ঢাকার তৃতীয় জেলা জজ আদালতে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও পরিবারের পক্ষে ক্ষতিপূরণ চেয়ে মামলাটি দায়ের করেছিল।