কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার ছোটনা গ্রামে বসতঘরে অগ্নিকাণ্ডে শিকলবন্দি অবস্থায় দগ্ধ হয়ে আনিসুর রহমান (৩৫) নামে এক মানসিক প্রতিবন্ধী যুবকের মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার (৬ মে) দিবাগত রাত ১টার দিকে উপজেলার পাটোয়ারী বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত আনিসুর ওই গ্রামের মিন্নত আলীর ছেলে।
এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী রেহেনা আক্তার শ্বশুর মিন্নত আলী, শাশুড়ি রিজিয়া বেগম ও ননদ বেলী আক্তারকে বিবাদী করে অবহেলাজনিত হত্যার অভিযোগ এনে রাত ৯টার দিকে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগে রেহেনা আক্তার জানান, বুধবার রাত ১টার দিকে তাদের বসতঘরে আগুন লাগে। আগুনে দগ্ধ হওয়ার পর আনিসুর রহমানকে ঘর থেকে বের করা হলেও তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়নি। বরং চিকিৎসার ব্যবস্থা না করে ঘরেই ফেলে রাখা হয়। পরিবারের সদস্যদের ইচ্ছাকৃত অবহেলা ও তাচ্ছিল্যের কারণেই বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকাল ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রতিবেশীদের ফোন পেয়ে রেহেনা আক্তার তার বাবার বাড়ি থেকে শ্বশুর বাড়িতে যান।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, আনিসুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছিলেন। চিকিৎসার পরও সুস্থ না হওয়ায় তাকে প্রায়ই ঘরের ভেতর শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হতো। বুধবার গভীর রাতে তার শোবার ঘরে আগুনের সূত্রপাত হলে মুহূর্তেই পুরো ঘরে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনলেও শিকলবন্দি থাকায় আনিসুর ঘর থেকে বের হতে পারেননি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আগুনে আনিসুরের শরীরের অধিকাংশ অংশ পুড়ে যায়। পরে তাকে উদ্ধার করা হলেও হাসপাতালে নেয়া হয়নি। অগ্নিকাণ্ডে ঘরের আসবাবপত্রসহ প্রায় সব মালামাল পুড়ে যায়। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মশার কয়েল থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর দগ্ধ অবস্থায় আনিসুরকে উদ্ধার করা হয়। তবে তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়নি। বাড়িতেই তার মৃত্যু হয়।
দেবিদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মনিরুজ্জামান বলেন, এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী থানায় অভিযোগ দিয়েছেন। নিহতের বাবা মিন্নত আলীকে আটক করা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য শুক্রবার (৮ মে) সকালে মর্গে পাঠানো হবে।



