পড়াশোনার পাশাপাশি মৌচাষ, সরিষা ফুলেই সজলের স্বাবলম্বিতার স্বপ্নপূরণ

উপজেলার পানানগর ইউনিয়নের পানানগর গ্রামসহ আলীপুর, গোপালপুর ও দাওকান্দি এলাকায় বিভিন্ন জেলা থেকে আসা মৌচাষিরা সরিষা ক্ষেতে মৌ বাক্স বসিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

দুর্গাপুর (রাজশাহী) সংবাদদাতা

Location :

Rajshahi
মৌচাষে স্বপ্নপূরণ
মৌচাষে স্বপ্নপূরণ |নয়া দিগন্ত

বয়সে তরুণ, একজন কলেজ শিক্ষার্থী। কিন্তু পড়াশোনার পাশাপাশি নিজ উদ্যোগে গড়ে তুলেছেন স্বাবলম্বিতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। সরিষা ফুলের মাঠে মৌ বাক্স বসিয়ে মধু সংগ্রহ করে মাসে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা আয় করছেন সজল আহমেদ। পড়াশোনার খরচ নিজেই চালাচ্ছেন, পাশাপাশি পরিবারেরও উপার্জনক্ষম সদস্য হিসেবে দায়িত্বও পালন করছেন তরুণ উদ্যোগক্তা।

পুঠিয়া উপজেলার তারাপুর গ্রামের বাসিন্দা ও রাজশাহী সরকারি সিটি কলেজ-এর প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী সজল আহমেদ কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার পানানগর গ্রামের বিস্তীর্ণ সরিষা ক্ষেতে ৭০টি মৌ বাক্স স্থাপন করেছেন। এসব বাক্স থেকে গড়ে প্রতি সপ্তাহে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ মধু আহরণ হচ্ছে। প্রতিটি বাক্স থেকে প্রায় সাড়ে ১০ হাজার টাকার মধু পাওয়া যায় বলে জানান তিনি।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার পানানগর ইউনিয়নের পানানগর গ্রামসহ আলীপুর, গোপালপুর ও দাওকান্দি এলাকায় বিভিন্ন জেলা থেকে আসা মৌচাষিরা সরিষা ক্ষেতে মৌ বাক্স বসিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে দুর্গাপুর উপজেলায় তিন হাজার ৭১০ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। কৃষি প্রণোদনার আওতায় পাঁচ হাজার ২০০ জন কৃষকের মধ্যে উন্নত জাতের সরিষার বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় প্রায় আড়াইশ’ মৌ বাক্স বসানো হয়েছে। এসব বাক্স থেকে এ পর্যন্ত প্রায় এক হাজার কেজি মধু সংগ্রহ করা হয়েছে। মৌচাষিরা জানায়, চলতি মৌসুমে সরিষার ভালো ফলনের কারণে মধু উৎপাদনও আশানুরূপ হয়েছে।

সজল জানান, স্টিল ও কাঠ দিয়ে তৈরি বিশেষ বাক্সের ভেতরে আটটি কাঠের ফ্রেমে মোমের সিট লাগানো থাকে। প্রতিটি বাক্সে একটি রানি মৌমাছি রাখা হয়। রানির আকর্ষণে হাজারো মৌমাছি সরিষা ফুল থেকে মধু সংগ্রহ করে বাক্সে জমা করে। একটি রানি মৌমাছির বিপরীতে প্রায় তিন হাজার মৌমাছি থাকে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাহানা পারভীন লাবনী বলেন, ‘সরিষা ক্ষেতে মৌমাছির বিচরণে পরাগায়ন বৃদ্ধি পায়, ফলে ফলন বেশি হয়। প্রতিবছর ৩৫ থেকে ৪৫ শতাংশ জমিতে মৌবাক্স স্থাপন করা হয়। সরিষার বাজার ভালো থাকায় চাষি ও মৌচাষিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও উৎসাহ দেয়া হচ্ছে।’