টেকনাফে চলন্ত বাসে ডাকাতি, বিকাশকর্মীকে কুপিয়ে ৫৭ লাখ টাকা লুট

দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন ও সীমান্তবর্তী এই মহাসড়কে যদি দিনের বেলাতেই সঙ্ঘবদ্ধ ডাকাতরা গাছ ফেলে যানবাহন থামিয়ে হামলা চালাতে পারে, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন দেখা দেয়।

হুমায়ুন কবির জুশান, উখিয়া (কক্সবাজার)

Location :

Cox's Bazar
বাসের গতি রোধে ডাকাতদের ব্যবহৃত গাছ
বাসের গতি রোধে ডাকাতদের ব্যবহৃত গাছ |নয়া দিগন্ত

কক্সবাজারের টেকনাফে চলন্ত বাসে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এ সময় দুই বিকাশকর্মীকে কুপিয়ে প্রায় ৫৭ লাখ টাকা লুট করেছে ডাকাতরা। এদিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কে চলন্ত বাসে দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনায় আবারো নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

রোববার (২ আগস্ট) দুপুরে ১৪ নম্বর ব্রিজ সংলগ্ন বেদ বাগান এলাকায় গাছ ফেলে একটি বাসের গতিরোধ করে সঙ্ঘবদ্ধ ডাকাতদল। এরপর বাসে উঠে ধারালো অস্ত্রের মুখে যাত্রীদের জিম্মি করে বিকাশের দুই সেলসম্যানের ওপর হামলা চালায় তারা।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ডাকাতরা বিকাশের দুই কর্মী আরমান (২৮) ও একরামকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। পরে তাদের কাছ থেকে প্রায় ৫৭ লাখ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। আহত দুই কর্মীকে স্থানীয়দের সহায়তায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ঘটনার পর মহাসড়কে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দিনের আলোতে ব্যস্ততম সড়কে সঙ্ঘটিত এমন দুঃসাহসিক ডাকাতি স্থানীয় বাসিন্দা, পরিবহন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

উখিয়া-টেকনাফ অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরেই মানবপাচার, অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়, মাদক পাচার ও সশস্ত্র অপরাধী চক্রের তৎপরতার কারণে আলোচনায় রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব অপরাধ দমনে বিভিন্ন সময় অভিযান পরিচালিত হলেও পুরো পরিস্থিতি এখনো কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণে আসেনি। এর মধ্যেই ব্যস্ত মহাসড়কে প্রকাশ্য দিবালোকে সঙ্ঘটিত এই ডাকাতির ঘটনা জনমনে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি করেছে।

স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন ও সীমান্তবর্তী এই মহাসড়কে যদি দিনের বেলাতেই সঙ্ঘবদ্ধ ডাকাতরা গাছ ফেলে যানবাহন থামিয়ে হামলা চালাতে পারে, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন দেখা দেয়। তারা মহাসড়কে নিয়মিত টহল জোরদার, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় স্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ঘটনার সাথে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে বলে জানা গেছে। ডাকাতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান চলছে। তবে এ ঘটনায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।