৯ দিন পর উদ্ধার হলেন যশোরে অপহৃত ফার্মেসি ব্যবসায়ী

একটি ইটভাটার পাশ থেকে মোটরসাইকেলে চোখ-হাত বাঁধা অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র‌্যাব-৬ যশোর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মেজর এ টি এম ফজলে রাব্বি প্রিন্স।

এম এ রহিম, চৌগাছা (যশোর)

Location :

Jashore
অপহৃত ফার্মেসি ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম
অপহৃত ফার্মেসি ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম

যশোরের চৌগাছা থেকে নয়দিন পর অপহৃত ফার্মেসি ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলমকে উদ্ধার করেছেন র‌্যাব-৬ যশোর ক্যাম্পের সদস্যরা।

বুধবার (১১ মার্চ) গভীর রাতে উপজেলার পাশাপোল ইউনিয়নের খোলসি বাজার এলাকার একটি ইটভাটার পাশ থেকে মোটরসাইকেলে চোখ-হাত বাঁধা অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র‌্যাব-৬ যশোর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার মেজর এ টি এম ফজলে রাব্বি প্রিন্স।

তিনি জানান, গত ২ মার্চ রাতে ফার্মেসি বন্ধ করে বাসায় ফেরার পথে অপহরণের শিকার হন ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলম। এই ঘটনায় কোতোয়ালী থানায় একটি অভিযোগ দেয়া হয়। ঘটনার পর থেকে পুলিশ, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও র‌্যাবের একটি দল অপহৃত ব্যবসায়ীকে উদ্ধারের জন্য চেষ্টা চালায়। বুধবার গভীর রাতে গোপন সূত্র ও তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে জানতে পারেন, খোলসি গ্রামের বাজার এলাকার একটি ইটভাটায় ওই ব্যবসায়ী অবস্থান করছেন। পরে গভীর রাতে তাদের একটি দল খোলসি ইটভাটা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন।

তিনি আরো জানান, তারা ভাটার কাছাকাছি একটি ঘরের পাশে তার নিজের মোটরসাইকেলের সাথে চোখ-হাত বাঁধা অবস্থায় জাহাঙ্গীর আলমকে উদ্ধার করেন। তবে এ অভিযানে র‌্যাবের উপস্থিতি টের পেয়ে আগেই অপহরণকারীরা পালিয়ে যান। জাহাঙ্গীর আলমকে উদ্ধার করে রাতেই র‌্যাব ক্যাম্পে আনার পর তার পরিবারে খবর দেয়া হয়। তিনি সুস্থ রয়েছেন। তাকে প্রয়োজনীয় সেবা দিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। ঘটনার নয়দিন পর অনেক চেষ্টা করে ব্যবসায়ী জাহাঙ্গীর আলমকে উদ্ধার করা হয়েছে। অপহরণকারীদের আটকের জন্য অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ৪ মার্চ সকালে জাহাঙ্গীর আলমের পরিবারের সদস্যরা প্রেসক্লাব যশোরে এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, শংকরপুর পশু হাসপাতালের সামনে জাহাঙ্গীর আলমের আর মেডিক্যাল ও জে আর এগ্রোভেট নামক দোকান রয়েছে। তিনি এ দোকান পরিচালনা করেন। প্রতিদিনের মতো গত ২ মার্চ রাত ৯টার দিকে ফার্মেসি বন্ধ করে তিনি নিজের মোটরসাইকেলে করে ধর্মতলা সুজলপুর এলাকার নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। দুর্বৃত্তরা তার পথ রোধ করে একটি মাইক্রোবাসে করে অপহরণ করে নিয়ে যান। রাত ১০টার দিকে জাহাঙ্গীর আলমের মোবাইল ফোন ব্যবহার করে অপহরণকারীরা প্রথমে তার মা জাহানারা খাতুনের কাছে ফোন দেন। এরপর তারা তার স্ত্রীর কাছে ফোন দেন। অপহরণকারীরা জাহাঙ্গীরকে জীবিত ফেরত পেতে এক কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন।

ঘটনার পর বিভিন্ন জায়গায় ফোন ও খবর নিয়ে জাহাঙ্গীরকে উদ্ধারে ব্যর্থ হন স্বজনরা। এ ঘটনায় অপহৃত জাহাঙ্গীরের স্ত্রী যশোর কোতোয়ালী থানায় একটি অভিযোগ করেন। ঘটনার নয়দিন পর অপহৃত জাহাঙ্গীরকে খোলসি বাজারের পাশের একটি ইটভাটা থেকে উদ্ধার করেছে র‌্যাব।