লালমোহনে গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার, হত্যার অভিযোগ পরিবারের

‘আমার মেয়ে কিভাবে মারা গেছে, তা আমি জানি না। তবে এটা আত্মহত্যা নয়, ওদের নির্যাতনের কারণেই আমার মেয়ে মারা গেছে। শাশুড়ি, দেবরসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন দীর্ঘদিন ধরে আমার মেয়ের সাথে খারাপ আচরণ করত। আমি এর সঠিক বিচার চাই।’

লালমোহন (ভোলা) সংবাদদাতা

Location :

Lalmohan
অ্যাম্বুলেন্সে লালমোহন থানায় আনা হয়েছে গৃহবধূর লাশ
অ্যাম্বুলেন্সে লালমোহন থানায় আনা হয়েছে গৃহবধূর লাশ |নয়া দিগন্ত

ভোলার লালমোহন উপজেলার চরভূতা ইউনিয়নের রহিমপুর ১ নম্বর ওয়ার্ডে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (২ জানুয়ারি) ভোরে বাড়ির পেছনের বাথরুমের আড়ার সাথে গলায় দড়ি পেঁচানো অবস্থায় লাশটি দেখতে পান পরিবারের সদস্যরা। পরে খবর পেয়ে লালমোহন থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশটি উদ্ধার করে।

নিহত নারীর নাম মুক্তা বেগম। তিনি ওই এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে জুয়েলের স্ত্রী।

নিহতের মা রানু বেগম অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার মেয়ে কিভাবে মারা গেছে, তা আমি জানি না। তবে এটা আত্মহত্যা নয়, ওদের নির্যাতনের কারণেই আমার মেয়ে মারা গেছে। শাশুড়ি, দেবরসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন দীর্ঘদিন ধরে আমার মেয়ের সাথে খারাপ আচরণ করত। আমি এর সঠিক বিচার চাই।’

অন্যদিকে নিহতের স্বামী জুয়েল দাবি করেন, ফজরের নামাজের পর মুক্তা আমার পাশ থেকে উঠে যায়। তখন সবকিছু স্বাভাবিক ছিল। কিছুক্ষণ পর ঘুম থেকে উঠে দেখি তাকে ঘরে পাওয়া যাচ্ছে না। অনেক খোঁজাখুঁজির পর বাড়ির পেছনের বাথরুমের আড়ার সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় তাকে দেখতে পাই। পরে আশপাশের লোকজন ডাকলে সবাই মিলে ওকে নামানো হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। প্রাথমিক তদন্ত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ ভোলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে বলে জানান পুলিশ। তবে এটা হত্যা না আত্মহত্যা এ নিয়ে ওই এলাকার জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

এ বিষয়ে লালমোহন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: অলিউল ইসলাম বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করেছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্ত প্রয়োজন। রিপোর্ট পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।