সিলেট ব্যুরো ও জৈন্তাপুর সংবাদদাতা
সিলেটের জৈন্তাপুরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যদের সাথে চোরাকারবারিদের সংঘর্ষ ও গোলাগুলি হয়েছে। এতে একজন বিজিবি সদস্যসহ অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) রাতে জৈন্তাপুর উপজেলার গৌরীশংকর টিপরাখোলা এলাকায় দফায় দফায় এ সংঘর্ষ হয়।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে জৈন্তাপুর উপজেলার গৌরীশংকর টিপরাখোলা এলাকায় টহলরত ৫-৬ জন বিজিবি সদস্যের সাথে স্থানীয় চোরাকারবারিদের বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে চোরাকারবারিরা বিজিবি সদস্যদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে এক বিজিবি সদস্য মাথায় গুরুতর আঘাত পান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে রাত পৌনে ১০টার দিকে বিজিবি সদস্যরা আত্মরক্ষার্থে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এ সময় মসজিদের মাইকে ঘোষণা দিয়ে স্থানীয় জনতাকে উসকানি দেয় চোরাকারবারিরা। এতে ঘটনাস্থলে উত্তেজনা আরো বেড়ে যায় এবং বিজিবি সদস্যরা কিছু সময়ের জন্য অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।
এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মো: আতিক আহমেদ (২০) নামে এক যুবক আহত হন। তিনি গৌরীশংকর গ্রামের মৃত নূর নবীর ছেলে। এছাড়া মো: রায়হান মিয়া (২৮), নুরজাহান (৫০) এবং জৈন্তাপুর রাজবাড়ী বিওপির বিজিবি সদস্য জাহাঙ্গীর আলম (৪৩) আহত হন। আহতদের প্রথমে জৈন্তাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে গুরুতর অবস্থায় গুলিবিদ্ধ আতিক আহমেদ ও বিজিবি সদস্য জাহাঙ্গীর আলমকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে হাসপাতালে ও ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কানাইঘাট সার্কেল) সালমান নূর আলম, জৈন্তাপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লাসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা এবং সেনাবাহিনীর একটি টহল দল উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে বিজিবি সদস্যদের নিরাপদে বিওপিতে পৌঁছে দেয়া হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, এর আগের দিন বুধবার সকালে জৈন্তাপুর উপজেলার নিজপাট ইউনিয়নের টিপরাখলা ঘুড়িমারা এলাকায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের মেইন পিলার ১২৮৮ থেকে আনুমানিক ১৫০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে অবৈধভাবে চোরাচালান করা ছয়টি গরু উদ্ধার করে জৈন্তাপুর রাজবাড়ী বিওপির বিজিবি সদস্যরা। ওই সময়ও চোরাকারবারিদের সাথে বিজিবির সংঘর্ষ হয় এবং এতে ল্যান্সনায়েক মো: ওমর ফারুক আহত হন। এ ঘটনায় ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে জৈন্তাপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করে বিজিবি। পুলিশের ধারণা, ওই ঘটনার জের ধরেই বৃহস্পতিবার রাতে নতুন করে সংঘর্ষ ঘটে।
জৈন্তাপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান মোল্লা বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় একজন বিজিবি সদস্যসহ দুজন স্থানীয় ব্যক্তি আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন গুলিবিদ্ধ। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে এবং এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
তবে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আহতের সংখ্যা সাতজন।
এদিকে, এ বিষয়ে জকিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন ১৯ বিজিবির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।



