অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহ

যাকাতভিত্তিক ইসলামী ব্যবস্থা ছাড়া সুখী-সমৃদ্ধ কল্যাণ রাষ্ট্র গঠন সম্ভব নয়

‘অর্থনৈতিক শোষণ ও বঞ্চনার করালগ্রাস থেকে মানুষকে মুক্ত করে একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও কল্যাণময় রাষ্ট্র গঠন করতে যাকাতভিত্তিক ইসলামী রাষ্ট্র ব্যবস্থার বিকল্প নেই’

তালা (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা

Location :

Tala
তালা শিল্পকলা অ্যাকাডেমির হলরুমে অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহ
তালা শিল্পকলা অ্যাকাডেমির হলরুমে অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহ |নয়া দিগন্ত

‘অর্থনৈতিক শোষণ ও বঞ্চনার করালগ্রাস থেকে মানুষকে মুক্ত করে একটি সুখী, সমৃদ্ধ ও কল্যাণময় রাষ্ট্র গঠন করতে যাকাতভিত্তিক ইসলামী রাষ্ট্র ব্যবস্থার বিকল্প নেই’ বলে মন্তব্য করেছেন সাতক্ষীরা-১ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহ।

বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দুপুর ২টার দিকে তালা শিল্পকলা অ্যাকাডেমির হলরুমে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তালা উপজেলা শাখার আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘যাকাত’ শীর্ষক সেমিনার ও ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অধ্যক্ষ ইজ্জত উল্লাহ বলেন, ‘ইসলামের অন্যতম প্রধান ইবাদত হলো যাকাত। ঈমান আনার পর নামাজ এবং তার পরেই যাকাতের স্থান।’

একটি হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, ‘নামাজের পরই যাকাত আদায়ের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তাই কেউ যদি যাকাত আদায় না করে, তবে তার নামাজও পূর্ণাঙ্গ হবে না।’

এমপি আরো বলেন, ‘আল্লাহ তা’আলা বলেছেন- যারা রাষ্ট্রক্ষমতা লাভ করবে তাদের দায়িত্ব হলো নামাজ কায়েম করা, যাকাত প্রতিষ্ঠা করা, সৎ কাজের আদেশ দেয়া এবং অসৎ কাজ থেকে বিরত রাখা। সমাজে এখনো ইসলামী বিধান পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত না হওয়ায় বিত্তবানদের উচিত তাদের আশপাশের অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো।’

আরেকটি হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, ‘কোনো ধনী ব্যক্তি যদি পেটপুরে খায় অথচ তার প্রতিবেশী ক্ষুধার্ত অবস্থায় রাত কাটায় এবং সে তার খোঁজ না নেয়, তবে সে রাসুলুল্লাহ সা:-এর দলভুক্ত নয়।’

উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মফিদুল্লাহর সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন ও ‘ইসলামী জীবন বিধানে যাকাত’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের আমির উপাধ্যক্ষ শহীদুল ইসলাম মুকুল।

সেমিনারে বক্তারা বলেন, রাষ্ট্রীয়ভাবে যাকাত আদায়ের ব্যবস্থা করা হলে দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর দারিদ্র্য অনেকাংশে দূর করা সম্ভব। বর্তমানে দেশে প্রায় ১৬ লাখ ছিন্নমূল ও গৃহহীন পরিবার এবং প্রায় ৩২ লাখ ভূমিহীন পরিবার রয়েছে। প্রত্যেক পরিবারকে যাকাতের মাধ্যমে পাঁচ লাখ টাকা পুনর্বাসন দেয়া হলেও বিপুল পরিমাণ অর্থ অবশিষ্ট থাকবে, যা দেশের উন্নয়নে কাজে লাগানো সম্ভব।

উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা কবিরুল ইসলামের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন জেলা নায়েবে আমির ডা: মাহমুদুল হক, উপজেলা নায়েবে আমির মাস্টার আব্দুল মালেক, উপজেলা সেক্রেটারি অধ্যাপক ইদ্রিস আলী, সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা মাসুম বিল্লাহসহ অন্য নেতৃবৃন্দ।

সেমিনার শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়।