হাড় কাঁপানো শীত ও ঘন কুয়াশায় খুলনার উপকূলীয় উপজেলা কয়রায় জনজীবন প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। কয়েক দিন ধরে সূর্যের দেখা না মেলায় শীতের তীব্রতা বেড়েছে আশঙ্কাজনকভাবে। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন জেলে, কৃষক, ভ্যানচালক ও দিনমজুরসহ খেটে খাওয়া মানুষ।
সুন্দরবন সংলগ্ন এ উপজেলায় ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত ঘন কুয়াশায় চারদিক ঢেকে থাকছে। কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত কুয়াশা কাটছে না। ফলে সড়কে যানবাহন চলাচল কমে গেছে এবং প্রয়োজন ছাড়া সাধারণ মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। এতে দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল মানুষের জীবিকা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
বিশেষ করে সুন্দরবন নির্ভর জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়ালরা চরম সংকটে পড়েছেন। অতিরিক্ত শীত ও কুয়াশার কারণে অনেক জেলে নদীতে মাছ ধরতে যেতে পারছেন না। স্থানীয় জেলে শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘ঠান্ডা এত বেশি যে নদীতে নামা খুব কষ্টকর। মাছ ধরতে না পারলে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়ে।’
কৃষিখাতেও শীত ও কুয়াশার বিরূপ প্রভাব পড়েছে। অতিরিক্ত কুয়াশার কারণে ধানের ক্ষেতে ছত্রাক ও রোগবালাই দেখা দিচ্ছে। এতে ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।
কৃষক কালাম সরদার জানান, সময়মতো ক্ষেতে যেতে না পারায় অনেকেই ক্ষতির মুখে পড়ছেন। এছাড়া অতিরিক্ত কুয়াশা ও শীতের কারণে বীজের অঙ্কুরোদগমের হার কম।
শীতের তীব্রতায় ভ্যানচালক ও শ্রমজীবী মানুষের কষ্ট আরো বেড়েছে। যাত্রী কম থাকায় আয়ও কমে গেছে। ভ্যানচালক মো: আলাউদ্দীন বলেন, ‘ঠান্ডা ও কুয়াশায় হাত-পা অবশ হয়ে আসে। কাজ করতে পারি না, আয়ও নেই।’
স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নেতা ও ইউপি সদস্য আবু হাসান সরদার বলেন, ‘দ্রুত সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণ এবং স্বাস্থ্যসেবায় বিশেষ নজর দেয়া না হলে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।
এদিকে শীতের কারণে এলাকায় সর্দি, কাশি, জ্বর ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে।
কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা: সুজিত কুমার বৈদ্য বলেন, ‘শিশু ও বয়স্করা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রয়োজনীয় শীতবস্ত্রের অভাবে দরিদ্র পরিবারগুলোর দুর্ভোগ আরো তীব্র আকার ধারণ করেছে।’



