তৃতীয়বারের মতো জয়ের দেখা পেলেন জামায়াত প্রার্থী

১৯৯১ সালে প্রথমবার নির্বাচনে নেমে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা আক্তারুজ্জামান চৌধুরী বাবুকে হারিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন শাহজাহান চৌধুরী। ২০০১ সালেও তিনি জয় পান এই আসনে। তবে ২০০৮ সালের পর বিভিন্ন রাজনৈতিক বাস্তবতায় টানা কয়েকটি নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি তিনি।

মোছাদ্দেক হোসাইন, লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম)

Location :

Chattogram
দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী
দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী |নয়া দিগন্ত

চট্টগ্রাম-১৫ (লোহাগাড়া-সাতকানিয়া) আসনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী।

তিনি ভোট পেয়েছেন এক লাখ ৭২ হাজার ৬১টি। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ভোট পেয়েছেন এক লাখ ২৭ হাজার ২৫ ভোট।

৪৫ হাজার ৩৬ ভোট বেশি পেয়ে জয়লাভ করেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী শাহজাহান চৌধুরী। অন্যদিকে হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী শরীফুল আলম চৌধুরী পেয়েছেন দুই হাজার ৮৭৩টি ভোট।

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলা পাবলিক হলরুমে উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম এই ফলাফল ঘোষণা করেন। একই সময় ৬২ দশমিক ৮৪ শতাংশ ভোট কাস্ট হয়েছে বলেও জানান তিনি।

উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম-১৫ আসনে মোট ভোটার চার লাখ ৯১ হাজার ৭৮৭ জন। এর মধ্যে লোহাগাড়া উপজেলার নয়টি ইউনিয়নে ভোটার দুই লাখ ৪২ হাজার ১৭১ জন। এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন তিনজন প্রার্থী— বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শাহজাহান চৌধুরী (দাঁড়িপাল্লা), বিএনপির নাজমুল মোস্তফা আমিন (ধানের শীষ) ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শরীফুল আলম চৌধুরী (হাতপাখা)।

এ আসনে পোস্টাল ব্যালটে ভোট নিবন্ধন করেছিলেন ১৪ হাজার ২৭২ জন। পোস্টাল ভোটে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক পেয়েছে ১০ হাজার ‍দুই শ’ ৫৫ ভোট। ধানের শীষ প্রতীক পেয়েছে দুই হাজার তিন শ’ ৫৪ ভোট।

এর আগে ১৯৯১ সালে প্রথমবার নির্বাচনে নেমে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা আক্তারুজ্জামান চৌধুরী বাবুকে হারিয়ে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন শাহজাহান চৌধুরী। ২০০১ সালেও তিনি জয় পান এই আসনে। তবে ২০০৮ সালের পর বিভিন্ন রাজনৈতিক বাস্তবতায় টানা কয়েকটি নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি তিনি।

জয়ের ব্যাপারে জানতে চাইলে শাহজাহান চৌধুরী বলেন, ‘এই আসনে দ্বিতীয় বারের মতো জয়ী হয়েছে এমন কোনো প্রার্থী নেই; অথচ আমি তৃতীয়বার জয়ী হয়েছি। জনগণ রায় দিয়ে আমাকে কাজ করা সুযোগ দিয়েছেন। সুতরাং এখন আমার উদ্দেশ্য থাকবে আমার দেয়া কথাগুলো একে একে বাস্তবায়ন করা পার্লামেন্টে গিয়ে। একদিকে আমার বিজয় এবং অন্যদিকে আমার দায়িত্ব, দু’টাকে সমন্বয় করে করে আমি সাতকানিয়া ও লোহাগাড়াবাসীর জন্য কাজ করে যাব, ইনশাআল্লাহ।’