টানা কয়েকদিনের ভারী বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলে রাঙ্গামাটির কাপ্তাই লেকের পানির স্তর দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়েছে।
পানির স্বল্পতা কাটিয়ে অবশেষে মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিট একযোগে চালু করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান।
বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সবকটি ইউনিট চালু হওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন বেড়ে ১৪৪ মেগাওয়াটে পৌঁছেছে, যা জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়ে দেশের চলমান বিদ্যুৎ সঙ্কট মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান আরো জানান, ‘গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিপাত এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে কাপ্তাই লেকের পানির লেভেল সন্তোষজনক হারে বাড়ছে। পানির ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল এই কেন্দ্রের উৎপাদন সচল রাখতে আমরা মঙ্গলবার রাত থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিটই একসাথে চালু করতে সক্ষম হয়েছি।’
এদিকে কেন্দ্রের কন্ট্রোল রুমে দায়িত্বরত প্রকৌশলীদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, মঙ্গলবার রাত ৮টা পর্যন্ত কাপ্তাই লেকে পানির স্তর রেকর্ড করা হয়েছে ৭৯.৮৬ ফুট এমএসএল (মিন সি লেভেল)। যদিও রুলকার্ভ (পানির পরিমাপক নির্দেশিকা) অনুযায়ী বছরের এই সময়ে লেকে পানি থাকার কথা ৮৪.৯৬ ফুট এমএসএল। অর্থাৎ, রুলকার্ভের চেয়ে এখনো কিছুটা কম পানি থাকলেও বর্তমান প্রবাহ উৎপাদন সচল রাখার জন্য পর্যাপ্ত।
কন্ট্রোল রুম সূত্রে জানা গেছে, চালু হওয়া পাঁচটি ইউনিট থেকে বর্তমানে মোট ১৪৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে।
উল্লেখ্য, কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের এই পাঁচটি ইউনিটের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বা ইনস্টলড ক্যাপাসিটি হলো ২৪২ মেগাওয়াট (পিক আওয়ারে যা ২৪০ মেগাওয়াট পর্যন্ত ধরা হয়)। পানির স্তর আরো বাড়লে উৎপাদন সক্ষমতার সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানো সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রকৌশলীরা আরো জানান, তীব্র খরা ও লেকের পানি আশঙ্কাজনকহারে কমে যাওয়ার কারণে বিগত কয়েক মাস ধরে এখানে বিদ্যুৎ বিপর্যয় চলছিল। বাধ্য হয়ে কখনো একটি বা সর্বোচ্চ দু’টি ইউনিট চালু রেখে নামমাত্র বিদ্যুৎ উৎপাদন সচল রাখা হয়েছিল। তবে বৃষ্টির সুবাদে পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি ঘটে। গত ৬ জুলাই তিনটি ইউনিট এবং গতকাল মঙ্গলবার রাতে পাঁচটি ইউনিটই ধাপে ধাপে চালু করা হয়।
উল্লেখ্য, কাপ্তাই লেকে পানির সর্বোচ্চ ধারণ ক্ষমতা হচ্ছে ১০৮ ফুট এমএসএল। পাহাড়ি ঢলের এই ধারা অব্যাহত থাকলে লেকের পানির স্তর স্বাভাবিক রূপ নেবে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন আরো দীর্ঘস্থায়ী হবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।
সূত্র : বাসস



