নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির কার্যালয়ে হামলা-ভাঙচুরের পর এবার আসবাবপত্র ও জানালার গ্রিল লুট করে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে।
পিরোজপুর ইউনিয়ন বিএনপির ৬নম্বর ওয়ার্ড কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাতে এসব লুট করে নিয়ে যায়।
এর আগে গত বুধবার দুপুরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি বাবুল বেপারীসহ উভয় পক্ষের ১১ জন আহত হয়েছেন। আহতদের সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় সোনারগাঁও থানায় দু’পক্ষের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
জানা যায়, সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আব্দুর রউফের সাথে পিরোজপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল জলিলের দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলে আসছে।
এ বিরোধের জেরে গত বুধবার দুপুরে আব্দুল জলিলের নেতৃত্বে নুরুজ্জামান, সবুর খান, আব্দুল লতিফসহ ১০-১৫ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র লাঠিসোটা, রামদা, চাইনিজ কুড়াল, লোহার রড নিয়ে আষাঢ়িয়ার চর বাসস্ট্যান্ডে পিরোজপুর ইউনিয়ন ৬নং ওয়ার্ড বিএনপির কার্যালয়ে হামলা করে। হামলায় কার্যালয়ের দরজা, জানালা, চেয়ার, টেবিল ভাঙচুর করা হয়।
এ ঘটনায় উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে আব্দুর রউফ পক্ষের পিরোজপুর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি বাবুল বেপারী, পিরোজপুর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক, সহ-সভাপতি রফিকুল ইসলাম, সদস্য মফিজুল ইসলাম মফিজ, আবু আক্কাস, ইয়ানবি, রিফাত ও রাফিদ আহত হয়। অপর পক্ষের আব্দুল জলিল, সবুর খান, ডালিম আহত হয়।
এদিকে সংঘর্ষের পর গত বৃহস্পতিবার রাতে আব্দুল জলিলের নেতৃত্বে পুনরায় বিএনপি কার্যালয়ের চেয়ার, টেবিলসহ আসবাবপত্র ও জানালার গ্রিল লুট করে নিয়ে যায়। সংঘর্ষ ও লুটপাটের ঘটনায় সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আব্দুর রউফ ও আব্দুল জলিল পক্ষের আহত সবুর খান বাদী হয়ে সোনারগাঁও থানায় পৃথক অভিযোগ দায়ের করেন।
সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক আব্দুর রউফ বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তিনি নিজস্ব অর্থায়নে পিরোজপুর ইউনিয়নের ৬নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির কার্যালয় নির্মাণ করেন। বিরোধের জেরে আব্দুল জলিলের নেতৃত্বে হামলা করে ভাঙচুর করা হয়। পরে রাতে বিএনপি কার্যালয়ের চেয়ার-টেবিল, ক্যাবিনেটসহ আসবাবপত্র ও জানালার গ্রিল লুট করে নিয়ে যায়। এ সময় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ছবি ভাঙচুর করা হয়।
অভিযুক্ত পিরোজপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল জলিলের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আব্দুর রউফের স্ত্রী ও ছেলেরা বিএনপি কার্যালয়ের চেয়ার-টেবিল ও জানালার গ্রিল পিকআপে করে নিয়ে গেছেন। উল্টো দলীয়ভাবে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার জন্য এ অপপ্রচার করা হচ্ছে।
সোনারগাঁও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো: মোশারফ হোসেন বলেন, ‘ব্যক্তিগত বিরোধে দলীয় কার্যালয়ে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এর আগেও তাদের মধ্যে হামলা-সংঘর্ষ হয়। দলীয় পদ ব্যবহার করে কেউ অপকর্মে জড়িত থাকলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। বিষয়টি নিয়ে এমপির সাথে আলোচনা করে তাদের বিরুদ্ধে দলীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।’
সোনারগাঁও থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষ থানায় অভিযোগ দিয়েছেন। দলীয়ভাবে নিজেরা মীমাংসা করতে পারলে মামলার প্রয়োজন নেই। তবে মীমাংসা না হলে উভয় পক্ষের মামলা গ্রহণ করা হবে।’



