খুলনায় পাট শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ

দৌলতপুর জুট প্রেস অ্যান্ড বেলিং ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের ব্যানারে শ্রমিকরা সকালে রেলিগেট মোড় থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে।

এরশাদ আলী, খুলনা ব্যুরো

Location :

Khulna
শ্রমিকদের বিক্ষোভ
শ্রমিকদের বিক্ষোভ |নয়া দিগন্ত

খুলনার দৌলতপুরে কাঁচাপাট রফতানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং বকেয়া বেতনাদি পরিশোধের দাবিতে পাট শ্রমিকরা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এতে খুলনা-যশোর মহাসড়ক কয়েক ঘণ্টার জন্য বন্ধ হয়ে যায়। যানবাহনগুলো বিকল্প পথ বাইপাস দিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হয়।

মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল সাড়ে ১০টায় রেলিগেট মোড় থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন শ্রমিকরা।

সূত্র জানায়, দৌলতপুর জুট প্রেস অ্যান্ড বেলিং ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের ব্যানারে শ্রমিকরা সকালে রেলিগেট মোড় থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। পরে তারা বাংলাদেশ জুট অ্যাসোসিয়েশন (বিজেএ) ভবনের সামনে সড়ক অবরোধ করে অবস্থান নেন। এসময় শ্রমিকদের একটি অংশ ভবনের বাইরে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ ও জানালার কাচ ভাঙচুর করে। পরে দুপুর ১২টার দিকে পুলিশ ও শ্রমিক নেতাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

বিক্ষোভ সমাবেশে শ্রমিক নেতারা অভিযোগ করেন, ২০২৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর কাঁচা পাট রফতানির ওপর ষড়যন্ত্রমূলক নিষেধাজ্ঞা আরোপের পর থেকে পাট খাত মারাত্মক সংকটে পড়েছে। গত নয় মাস ধরে অসংখ্য শ্রমিক কর্মহীন অবস্থায় পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তারা দ্রুত কাঁচা পাট রফতানি চালুর পাশাপাশি বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবি জানান। অন্যথায় বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।

অপরদিকে একই সময়ে বাংলাদেশ জুট অ্যাসোসিয়েশন (বিজেএ) ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের শর্ত আরোপের মাধ্যমে কাঁচা পাট রফতানি কার্যত বন্ধ করে দেয়ার প্রতিবাদ জানান।

সংবাদ সম্মেলনে বিজেএ চেয়ারম্যান খন্দকার আলমগীর কবির বলেন, ‘‘রফতানি বন্ধ থাকায় খুলনা, নারায়ণঞ্জ, বৃহত্তর ফরিদপুর ও উত্তরবঙ্গসহ দেশের প্রায় ৪০টি ছোট-বড় জুট প্রেস বন্ধ রয়েছে। ফলে প্রায় নয় মাস ধরে লক্ষাধিক শ্রমিক কর্মহীন হয়ে আছেন। একই সাথে ব্যবসা বন্ধ থাকলেও গুদাম ভাড়া, ব্যাংক ঋণের সুদ, বীমা ও শ্রমিক ব্যয়সহ নানা খরচ বহন করতে হওয়ায় প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক সংকট বাড়ছে।

কাঁচা পাটকে শর্তযুক্ত রফতানি পণ্যের তালিকা থেকে বাদ না দেয়া পর্যন্ত বুধবার থেকে দৌলতপুরস্থ বিজেএ কার্যালয়ের সামনে ধারাবাহিকভাবে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হবে বলে তিনি ঘোষণা করেন।