গৌরনদী প্রশাসনের প্রস্তুতি বনাম মাঠের বাস্তবতা

সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং ভোটকেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় দেয়া হবে না।

আরিফিন রিয়াদ, গৌরনদী (বরিশাল)

Location :

Gaurnadi
প্রশাসনের প্রস্তুতি
প্রশাসনের প্রস্তুতি |নয়া দিগন্ত

আগামীকাল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ভোটের ঠিক একদিন আগে বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় প্রশাসনিক তৎপরতা দৃশ্যমানভাবে বেড়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল, ভোটকেন্দ্রভিত্তিক নিরাপত্তা পরিকল্পনা এবং সরেজমিন পরিদর্শনের মাধ্যমে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একটি নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে। তবে গোয়েন্দা তথ্য ও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা বলছে ঝুঁকির মাত্রা এখনো পুরোপুরি কাটেনি।

এবারে নির্বাচনে গৌরনদী উপজেলায় মোট ৬৯টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন। অতীত নির্বাচনে উত্তেজনা, প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ এবং সংঘাতের অভিজ্ঞতার কারণেই এসব কেন্দ্র প্রশাসনের বাড়তি নজরে এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনসহ বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নির্বাচন-পূর্ব প্রস্তুতির অংশ হিসেবে মঙ্গলবার উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো: মেহেদী হাসান একাধিক ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি কেন্দ্রের অবকাঠামোগত প্রস্তুতি, প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অবস্থান এবং জরুরি পরিস্থিতিতে করণীয় বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন। প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, আগাম প্রস্তুতি ও সমন্বিত পরিকল্পনার মাধ্যমেই যেকোনো ঝুঁকি মোকাবিলা করা সম্ভব।

তবে মাঠপর্যায়ের বাস্তবতায় কিছু কাঠামোগত চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। গৌরনদীর কয়েকটি ভোটকেন্দ্র নদী ও খালবেষ্টিত এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় জরুরি পরিস্থিতিতে সেখানে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা নির্বাহী সহায়তা পৌঁছানো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন স্থানীয়রা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিকল্প যোগাযোগ ব্যবস্থা ও দ্রুত প্রতিক্রিয়া দল প্রস্তুত রাখার কথা বলা হলেও নির্বাচন দিনের বাস্তব চাপে এসব ব্যবস্থার কার্যকারিতা কতটা নিশ্চিত করা যাবে, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন রয়েছে।

এ বিষয়ে গৌরনদী উপজেলার সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: ইব্রাহীম বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ভোটের পরিবেশ স্বাভাবিক রয়েছে।’

তিনি জানান, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং ভোটকেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের ছাড় দেয়া হবে না।

অন্যদিকে, স্থানীয় রাজনৈতিক বাস্তবতা ও পূর্ব অভিজ্ঞতার আলোকে অনেকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন। অতীতে যেসব কেন্দ্রে উত্তেজনা বা সহিংসতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, সেগুলো এবারো প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন তারা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভোটারদের নিরাপত্তাই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এবং আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষতা বজায় রাখা হবে।

সব মিলিয়ে, ভোটের আগের দিন গৌরনদীতে প্রশাসনের প্রস্তুতি দৃশ্যমান হলেও ঝুঁকির বিষয়টি পুরোপুরি উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। আগাম পরিকল্পনা, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং মাঠপর্যায়ের কার্যকর সমন্বয়ই শেষ পর্যন্ত নির্ধারণ করবে নির্বাচনটি কতটা শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য হয়।