প্যারোলে মুক্তি পেয়ে মায়ের জানাজায় রানা প্লাজার মালিক

রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানার মায়ের মৃত্যুতে স্বজনদের আবেদনের প্রেক্ষিতে জানাজায় অংশ গ্রহণের জন্য কারাগার থেকে প্যারোলে মুক্তি পান তিনি।

আমান উল্লাহ পাটওয়ারী, সাভার (ঢাকা)

Location :

Savar
রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানা
রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানা |নয়া দিগন্ত

সাভার বাসস্ট্যান্ডে ধসে পড়া রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানাকে মা মর্জিনা বেগমের (৬৫) জানাজায় অংশগ্রহণ করতে প্যারোলে মুক্তি ‍দিয়েছে গাজীপুর কাশিমপুর কারাগার।

শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) ইফতারের পর দেড় ঘণ্টার জন্য তাকে মুক্তি দেয়া হয়। এ সময় তিনি উপস্থিত সকলের কাছে মাফ চান।

মর্জিনা বেগম শুক্রবার রাতে ঢাকার একটি হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি সাভার পৌর এলাকার বাজার রোড এলাকার মরহুম আব্দুল খালেকের স্ত্রী।

জানাজায় অংশ গ্রহণ করে সোহেল রানা উপস্থিত মুসল্লিদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমার মার জন্য সবাই দোয়া করবেন এবং আমার ভুলের জন্য সবাই আমাকে মাফ করবেন।’

রানার চাচাতো ভাই জাহাঙ্গীর আলম জানান, আমার চাচি মর্জিনা বেগম দীর্ঘদিন যাবত ক্যান্সার রোগে আক্রান্ত ছিলেন। শুক্রবার রাতে রাজধানীর ল্যাব এইড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পরে প্যারোলে আবেদন করলে আমার চাচাতো ভাই রানাকে সন্ধ্যা ৬টার দিকে পুলিশ সাভারে নিয়ে আসে। এ সময় রানা সকলের কাছে তার ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন। পরে তাকে সাড়ে ৭টার দিকে গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে পুনরায় নিয়ে যায় পুলিশ।

থানার (এসআই) মোত্তাছিম বিল্লাহ রোববার সকালে সকালে নয়া দিগন্তকে জানান, রানা প্লাজার মালিক সোহেল রানার মায়ের মৃত্যুতে স্বজনদের আবেদনের প্রেক্ষিতে জানাজায় অংশ গ্রহণের জন্য কারাগার থেকে প্যারোলে মুক্তি পান তিনি।

উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে ২৪ এপ্রিল সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ডে বহুতলা ভবণ রানা প্লাজাধসের পর ভবণ মালিক সোহেল রানাকে ২৮ এপ্রিল ভারত পালিয়ে যাওয়ার সময় বেনাপোল সীমান্ত থেকে আটক করা হয়েছিল। এ পর্যন্ত তার দুইবার জামিন আদেশ হলেও পরবর্তীতে বিভিন্ন কারণে তা বাতিল হয়ে যায়। রানা প্লাজা ধসে এক হাজার ১৩৮ জন শ্রমিক নিহত দুই হাজার ৪৩৮ জন আহত হন।