লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলে চতুর্থবারের মতো নির্বাহী মেয়র নির্বাচিত হয়ে নতুন ইতিহাস গড়েছেন সিলেটে জন্ম নেয়া বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত বৃটিশ রাজনীতিক লুৎফুর রহমান।
অ্যাসপায়ার পার্টির নেতা লুৎফুর রহমান ৩৫ হাজার ৬৭৯ ভোট পেয়ে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী লেবার পার্টির সিরাজুল ইসলামকে বিপুল ব্যবধানে পরাজিত করেছেন। সিরাজুল ইসলাম পেয়েছেন ১৯ হাজার ৪৫৪ ভোট।
শুক্রবার (৮ মে) সন্ধ্যায় শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ শেষে এক্সসেল লন্ডনে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। লুৎফুর রহমান নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে ১৬ হাজার ২২৫ ভোট বেশি পেয়ে বিজয়ী হন। গ্রিন পার্টির হিরা খান আডিওগুন পেয়েছেন ১৯ হাজার ২২৩ ভোট, রিফর্ম ইউকের জন জেরাল্ড বুলার্ড সাত হাজার ১৫৩ ভোট, কনজারভেটিভ পার্টির ডোমিনিক আইডান নোলান তিন হাজার ৮১৮ ভোট, টাওয়ার হ্যামলেটস ইনডিপেনডেন্টসের ব্যারিস্টার জামি আলি তিন হাজার ১৫৬ ভোট, লিবারাল ডেমোক্র্যাটসের মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান দুই হাজার ৪২১ ভোট, ট্রেড ইউনিয়নিস্ট অ্যান্ড সোশ্যালিস্ট কোয়ালিশনের হুগো পিয়েরে ৬৩৮ ভোট এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী টারেন্স ম্যাকগ্রেনারা ৫২৪ ভোট পান।
বিজয়ের ঘোষণা আসার পর এক্সসেল লন্ডনে সমর্থকদের উল্লাসে মুখরিত হয়ে ওঠে পরিবেশ। জনতার মেয়র খ্যাত লুৎফুর রহমান পুনঃনির্বাচিত হওয়ায় সমর্থকরা তাকে প্রবাসী বাংলাদেশীদের গর্ব হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তারা ‘আল্লাহু আকবর’ ধ্বনি দিয়ে মহান স্রষ্টার শুকরিয়া আদায় করেন।
লুৎফুর রহমান জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘কাউন্সিলের জনগণ আমার প্রতি বিশ্বাস ও আস্থা রেখেছেন, তাদের কাছে আমার দায়বদ্ধতা আরো বেড়ে গেল।’
উল্লেখ্য, ২০১০ সালে যুক্তরাজ্যে প্রথম বাংলাদেশী নির্বাহী মেয়র নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেন লুৎফুর রহমান। এরপর ২০১৪ ও ২০২২ সালে পুনঃনির্বাচিত হন। এবার চতুর্থবার বিজয়ী হয়ে নতুন রেকর্ড গড়লেন তিনি। তার নেতৃত্বে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ফ্রি ট্রাভেল পাস, সোশ্যাল হাউজ নির্মাণ, ফ্রি স্কুল মিল, ইউনিভার্সিটি গ্রান্ট, বৃদ্ধদের জন্য ফ্রি হোম কেয়ার সুবিধাসহ নানা মানবিক উদ্যোগে ব্রিটেনে অনুকরণীয় উদাহরণ হয়ে উঠেছে।
শিশুকালে পরিবারসহ যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান লুৎফুর রহমান। অভিবাসী জীবন থেকে মূলধারার রাজনীতিতে উঠে এসে তিনি শুধু ব্রিটেন নয়, ইউরোপজুড়ে আলোচনায় আসেন। তিনি একজন প্র্যাকটিসিং মুসলিম ও পরহেজগার হিসেবে সুপরিচিত।
ব্রিটেনের শীর্ষ পত্রিকা ডেইলি টেলিগ্রাফ তাকে একাধিকবার শীর্ষ ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে। ২০১১ সালে তিনি ছিলেন ৭৮তম স্থানে, ২০১২ সালে ৫৩তম স্থানে উঠে আসেন। তার এই প্রভাব ও সাফল্য তাকে ব্রিটিশ বাংলাদেশী কমিউনিটির গর্বে পরিণত করেছে।
টাওয়ার হ্যামলেটসসহ গ্রেট ব্রিটেন এমনকি ইউরোপে বসবাসরত বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ লুৎফুর রহমানের চতুর্থবার বিজয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, এই বিজয় তার অভূতপূর্ব উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের প্রতিদান।



