কিশোরগঞ্জ (নীলফামারী) সংবাদদাতা
নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ভিজিএফের চাল বিতরণের তালিকা তৈরিতে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে পুরোনো তালিকার ভিত্তিতে খাদ্যগুদাম থেকে চাল উত্তোলনের প্রতিবাদে এক ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী সদস্য ও সাধারণ সদস্যরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
শনিবার (১৪ মার্চ) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার বাহাগিলি ইউনিয়ন পরিষদে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এ ঘটনায় উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে ভিজিএফের চাল বিতরণ নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জ উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের ২৬ হাজার ২১৪টি কার্ডের বিপরীতে মোট ২৬২ দশমিক ১৪০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বড়ভিটা ইউনিয়নে ২ হাজার ৬৩১ কার্ডের বিপরীতে ২৬ দশমিক ৩১০ মেট্রিক টন, পুটিমারী ইউনিয়নে ৩ হাজার ৩০৬ কার্ডের বিপরীতে ৩৩ দশমিক ০৬০ মেট্রিক টন, নিতাই ইউনিয়নে ২ হাজার ৭৮৭ কার্ডের বিপরীতে ২৭ দশমিক ৮৭০ মেট্রিক টন, বাহাগিলি ইউনিয়নে ২ হাজার ৫১৭ কার্ডের বিপরীতে ২৫ দশমিক ১৭০ মেট্রিক টন, চাঁদখানা ইউনিয়নে ২ হাজার ৬৩১ কার্ডের বিপরীতে ২৬ দশমিক ৩১০ মেট্রিক টন, সদর ইউনিয়নে ৩ হাজার ৬২৪ কার্ডের বিপরীতে ৩৬ দশমিক ২৪০ মেট্রিক টন, রণচন্ডি ইউনিয়নে ২ হাজার ৫২৬ কার্ডের বিপরীতে ২৫ দশমিক ২৬০ মেট্রিক টন, গাড়াগ্রাম ইউনিয়নে ২ হাজার ৭৫৪ কার্ডের বিপরীতে ২৭ দশমিক ৫৪০ মেট্রিক টন এবং মাগুড়া ইউনিয়নে ৩ হাজার ৪৩৮ কার্ডের বিপরীতে ৩৪ দশমিক ৩৮০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
দ্রুত সময়ের মধ্যে এসব চাল বিতরণের নিয়ম থাকলেও এখন পর্যন্ত একটি ইউনিয়নেও বিতরণ শুরু হয়নি বলে জানা গেছে।
সংবাদ সম্মেলনে বাহাগিলি ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী সদস্য ও সাধারণ সদস্যরা লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করেন, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুজাউদ্দোলা লিপটন সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘন করে সবার অগোচরে পুরোনো তালিকার ভিত্তিতে চাল উত্তোলন করে তা গোপন স্থানে সংরক্ষণ করেছেন।
তারা জানান, নীতিমালা অনুযায়ী চাল বিতরণের আগে প্রতিটি ওয়ার্ডে মানবিক সহায়তা কমিটির মাধ্যমে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের যাচাই-বাছাই করে কমিটির স্বাক্ষরিত তালিকা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার দপ্তরে জমা দিতে হয়। এরপর উপজেলা মানবিক সহায়তা কমিটির সভায় তালিকা অনুমোদিত হলে সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যান বা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির নামে ডিও (ডেলিভারি অর্ডার) দেয়া হয়। কিন্তু এ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বাহাগিলি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের নামে ডিও দেয়া হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন।
লিখিত বক্তব্যে আরো বলা হয়, নিয়ম অনুযায়ী চাল উত্তোলনের পর ইউনিয়ন পরিষদের গুদামে সংরক্ষণ করার কথা থাকলেও ওই চাল কোথায় রাখা হয়েছে তা সদস্যরা জানেন না। এছাড়া হাইকোর্টের ২৭২/২৬ নম্বর রায়ে সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানকে অপসারণ করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়। এরপরও তাঁর নামে কীভাবে ডিও দেয়া হলো—এ প্রশ্নও তোলা হয়।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে বাহাগিলি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুজাউদ্দোলা লিপটন বলেন, “নিয়ম মেনেই সবকিছু করা হয়েছে। এর বেশি কিছু বলতে পারব না।”
উপজেলা জামায়াতের আমির আব্দুর রশিদ শাহ বলেন, গত ১০ মার্চ উপজেলা মানবিক সহায়তা কমিটির সভা ডাকা হয়েছিল। সেখানে নীতিমালা অনুযায়ী চাল বিতরণের কথা বলা হলে উপস্থিত কয়েকজন ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সভা শেষ না করেই বের হয়ে যান। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কীভাবে বিষয়টি পরিচালনা করেছেন, তা তিনি জানেন না। অনিয়মের সুযোগ তৈরি করতেই এমনটি করা হয়ে থাকতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা লতিফুর রহমান বলেন, চেয়ারম্যানরা যে তালিকা দিয়েছেন, সেই তালিকা অনুযায়ী চাল বিতরণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এখনো চাল বিতরণ শুরু না হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কিছু সমস্যার কারণে চাল উত্তোলনে দেরি হয়েছিল। তবে শনিবার মাগুড়া ও বড়ভিটা ইউনিয়নে চাল বিতরণ শুরু হয়েছে।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানজিমা আঞ্জুম সোহানিয়ার সরকারি নম্বরে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি। হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হলেও কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।



